,

মিরসরাইয়ে হচ্ছে ‘লেদার ভিলেজ’

নিজস্ব প্রতিবেদক : চামড়া শিল্পে চট্টগ্রামের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মিরসরাইতে একটি ‘লেদার ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এজন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বেজা চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।

image-7159

পাশাপাশি মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাস্টার প্ল্যান দুই এর আওতায় ৩০ হাজার একর জায়গায় আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি নোয়াখালীর সোনাগাজী উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। এর মধ্যে ভারতের বিনিয়োগকারীরা এক হাজার একর জায়গায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামে চামড়া শিল্পের পূর্ণতা আসে। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম জেলায় ৪৪টি চামড়া প্রক্রিয়াজাত কারখানা ছিলো। মাত্র অর্ধ শতাব্দীর ব্যবধানে চট্টগ্রামের সেই শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের ২২টি ট্যানারির সব ক’টিই এখন বন্ধ। কোরবানির মৌসুমে চট্টগ্রামে চামড়া সংগ্রহ হয় প্রায় ছয় লাখ। এর বাজার মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা। তবে সারা বছরে এর পাঁচ গুণ বেশি চামড়া সংগ্রহ হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানি ঈদের সময় ছাড়া অন্য সময় কেবল চট্টগ্রাম থেকে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার কাঁচা চামড়া ঢাকার ট্যানারিগুলোতে যায়। দেশে চামড়া শিল্প থেকে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা। মোট রপ্তানি আয়ের ৯ শতাংশ আসে চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প থেকে। তবে রপ্তানীমুখী এই শিল্প চট্টগ্রামে প্রায় মৃত। অথচ দেশের মোট কাঁচা চামড়া যোগানের ২৫-৩০ শতাংশ চট্টগ্রাম থেকে হয়।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে রপ্তানি বহুমুখিকরণের লক্ষ্যে ‘এক জেলা এক পণ্য’ নামে একটি কর্মসূচি হাতে নেয় সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম জেলার জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও কাঁচামাল সহজলভ্য হিসাবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যকে চিহ্নিত করা হয়। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর দায়িত্ব ছিল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা। কিন্তু গত ছয় বছরেও আলোর মুখ দেখেনি এটি। চামড়া শিল্পে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য এখন ম্লান।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে চামড়া শিল্পের এখন যে অবস্থা সেখান থেকে উত্তরণ চাই আমরা। শহরের মাঝখানে চামড়া শিল্প করা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। মিরসরাইতে আমরা ৩০ হাজার একর জায়গায় আলাদা শিল্পাঞ্চল করার চিন্তা করছি। এখানে একটি লেদার ভিলেজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় বেজা। বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ এনে সমীক্ষা করানো হবে। চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসায়ীরাও একটি সমীক্ষা করতে পারেন।

তিনি বলেন, মিরসরাই এর সাথে তিনটি পৃথক রুটের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরের সাথে যুক্ত করা হবে। দূরত্ব এখন কোন সমস্যা না।

তিনি বলেন, একটি বা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইটিপি স্থাপন খুব ব্যয়বহুল। কিন্তু অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান যদি এক করা যায় তবে কেন্দ্রিয় ইটিপির মাধ্যমে পরিবেশ গত ক্ষতি মোকাবেলা করা সম্ভব। অন্য সরকারি সংস্থার মতো আমরা না। আপনাদের যে কোন সমস্যা আমাদের জানাতে পারেন।

তিনি বলেন, রিলায়েন্স, বসুন্ধরাসহ কয়েকটি বড় শিল্প গ্রুপ মিরসরাইতে পৃথক শিল্পাঞ্চলের জন্য জমি চেয়েছে। লেদার একটি প্রমিজিং ইন্ড্রাস্টি। বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কোন লেদার ভিলেজ না থাকা দুঃখজনক। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শিল্পের উন্নয়নে অর্থনীতি তথা দেশের স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন। বেজা চেয়ারম্যান চট্টগ্রামে চামড়া খাতের জন্য আলাদা শিল্পাঞ্চল তৈরিসহ এ খাতের সম্ভাবনাসমূহ নিয়ে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের সুচিন্তিত মতামত ও সুপারিশমালা বিনিময়ের আহবান জানান।

চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, সরকার সারা দেশে প্রায় ১০০টি শিল্পাঞ্চল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে যার মধ্যে ৩০টিরও অধিক কেবলমাত্র বৃহত্তর চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামে শিল্পে জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়নে যে সকল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রাম তার কাঙ্ক্ষিত রূপ পেতে সক্ষম হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলে ৮ শিক্ষক নিয়োগ

নির্বাচন সামনে রেখে ‘ক্লিনহার্ট’ অভিযান নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের জানাজা সম্পন্ন

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

নবীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আইভীর স্লোগানের পর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, বিমানবন্দর সড়কে যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, কাজ করছে ২০ ইউনিট