,

খাদিজার জন্য ইমরানের ভালোবাসা

photo-1475909328-1ভালোবাসা কি এতই ঠুনকো! শক্তি প্রয়োগ করে কি ভালোবাসা আদায় করা যায়? কিন্তু আমরা দেখলাম শুধু শক্তি নয়, নৃশংস কায়দায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ‘ভালোবাসার’ বহিঃপ্রকাশ।

খাদিজা বেগম নার্গিসের ‘ভালোবাসা’ আদায় করতে বদরুল আলম ফুল নয়, হাতে তুলে নিয়েছে চাপাতি! ভণ্ডামি, কপটতা, নির্মমতা আর  নৃশংসতার কী  চরম প্রদর্শনী! ভালোবাসা তো দূরে থাক, ন্যূনতম সহানুভূতিও তাই  জোটেনি  ‘বদ’ হিসেবে কুখ্যাতি পেয়ে  যাওয়া  বদরুলের কপালে। জুটেছে ধিক্কার, জুটেছে ঘৃণা।

আর  ইমরান কবির! গত সোমবার বিকেলের  আগেও কেউ চিনত না  তাকে; জানত না কেউ। অখ্যাত সেই  ইমরান কবির এখন  মানুষের মুখে  মুখে, পরম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্থান করে নিয়েছেন গণমানুষের হৃদয়ে।

খাদিজার জন্য অসীম ভালোবাসা দেখিয়ে, মানবতার আরেক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত  স্থাপন করেছেন ইমরান কবির। ‘বদ’ বদরুলের  চাপাতির  নির্মম  আঘাতে যখন খাদিজা নিথর হয়ে পড়ে আছেন এমসি কলেজের  পুকুরপাড়ে, যখন  ভয়-আতঙ্ক-শঙ্কায় অন্য  কেউ  বাড়াচ্ছিল  না  সাহায্যের হাত, ঠিক  তখন  দুরন্ত  সাহসের  প্রতীক  হয়ে  এগিয়ে  গেলেন  ইমরান। অজানা, অচেনা  খাদিজাকে নিয়ে গেলেন  হাসপাতালে। খাদিজার  শরীরে  দিলেন  নিজের  রক্ত; এনে  দিলেন  ওষুধ।

খাদিজা  তাই  বেঁচে  আছেন  এখনো। ইমরান  যদি  মানবতার  জন্য  হাত  না  বাড়াতেন, যদি আরো  কিছু  সময়  রক্তাক্ত, নিথর  খাদিজা  পড়ে  থাকতেন  ধুলোমাটিতে, তবে  কি  এখন পর্যন্ত মৃত্যুর  সাথে  পাঞ্জা  লড়তে  পারতেন? কী  জানি! অনিশ্চিত   উত্তরের  সন্ধান  না  হয় বাদই দিলাম।

কিন্তু  ইমরান কবিরের সাহসিকতা, অপরিচিত  একজনকে  কোলে  তুলে  নেওয়া, হাসপাতালে ছুটে যাওয়া, রক্ত  দেওয়া, ওষুধ  কিনে  দেওয়া-  কীভাবে  ব্যাখ্যা করবেন? খাদিজার জন্য ইমরানের যে ভালোবাসা, তা  তো  কোনোভাবেই ব্র্যাকেটবন্দি করা  যাবে না! এ  ভালোবাসা  শাশ্বত, হৃদয়ের গভীর কুঠুরি থেকে উৎসারিত; এ ভালোবাসা মানবতার জন্য, মনুষত্ববোধের চরম পরাকাষ্ঠার প্রদর্শন।

খাদিজা হাসপাতালের বেডে লড়ে যাচ্ছেন। আছেন সংকটাপন্ন মুহূর্তে কী ভাবছেন ইমরান কবির? খাদিজার এই সংকট কতটা দাগ কাটছে তার মনে?

শোনা যাক ইমরান কবিরের মুখ থেকেই, ‘খাদিজা আপু হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন, এই চিন্তা আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সর্বক্ষণ মনমরা হয়ে আছি। তার পরিবার কীভাবে এটা সহ্য করছে, ভাবতে পারছি না।’

খাদিজার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করে যাচ্ছেন ইমরান, ‘খাদিজা আপু সুস্থ হয়ে ওঠলে তার পরিবারের সদস্যরা যতটা খুশি হবেন, আমি তারচেয়ে কম খুশি হব না। তার সুস্থতার জন্যই দেশের সব মানুষের মতো আমিও প্রার্থনা করছি।’

মানবিকতার অনন্য প্রতীক হয়ে ওঠা ইমরান কবির নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন খাদিজার। আর চাইছেন, পাষণ্ড বর্বর বদরুল আলমের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি।

ইমরান কবিরের ভাষায়, ‘বদরুলের শাস্তি চায় না, এমন কোনো মানুষ নেই। আমি চাই, তাকে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে এমন নিকৃষ্ট অপরাধ আর কেউ না করে।’

এ জাতীয় আরও খবর

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও নিজস্ব মোবাইল নেই ৩৪ শতাংশের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে: বিরোধী নেতারা

পাপ্পু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাইটিভির সাথীকে

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজারের বেশি

কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট ১১৯৬

কাঁধের হাড় ভাঙা ও অস্টিওপোরোসিস: লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা