,

সেই ‘ভাল ছেলে’ রোকন জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের নাইড়া গ্রামের মৃত আইনুদ্দিনের ছোট ছেলে রোকনুজ্জামান রোকনকে স্থানীয়রা ‘ভাল ছেলে’ হিসেবেই জানেন। তাই তার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার খবরে তারা হতবাকই হয়েছেন।

 

2016_07_16_16_51_43_xLkiAqZseQGaLV1P9ZJyOQh67UDTxK_original

রোকন ঝিনাইদহে অবস্থানকালে একটি মেসে ৮ জঙ্গিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। এর মধ্যে গুলশান হামলায় জড়িত অন্যতম জঙ্গি নিবরাস ইসলামও রয়েছেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোকন ঝিনাইদহ শহরের সোনালী পাড়ার দারুস সালাম মসজিদের ইমাম। সেই সূত্র ধরেই তিনি ওই এলাকার মেসে জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়েছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, পড়াশুনার সুবাদে বেশ কয়েক বছর ধরে রোকন বাড়িতে ছিলেন না। বাড়ি থেকে লেখাপড়ার খরচ নিতেন না, যাতায়াতও কম ছিল। এজন্য এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কম।

ঝিনাইদহ শহরের সোনালী পাড়ার সাবেক সেনা সার্জেন্ট কাউসার আলীর স্ত্রী বিলকিস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বাড়ির পাশের দারুস সালাম মসজিদের ইমাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোকনুজ্জামান আনুমানিক চার মাস আগে তার বাড়িতে ভাড়াটিয়া নিয়ে আসনে। ইমাম তখন বলেছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা থাকবেন। প্রথমে দুইজন ওঠে। পরে আরও ছয়জন আসেন। এরপর তাদের কাছে বাসা ভাড়া দেয়া হয়।

রোকনুজ্জামানের ভাবি রাবেয়া খাতুন বলেন, আমার শ্বশুর বেঁচে নেই। তাই রোকন বাড়ি থেকে লেখাপড়ার খরচ নিতো না। নিজের উপার্জনের টাকায় চলতো। মাঝে মাঝে বাড়িতে বেড়াতে আসতো। রোকন ভাল ছেলে। অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে।
রোকনের ভাবি
রাবেয়া খাতুন আরও বলেন, নিজের টাকায় স্থানীয় বাগআচঁড়া মাদরাসা থেকে আলিম পাস করার পর সে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়। এরপর ঝিনাইদহ শহরে থেকে পড়াশুনার পাশাপাশি একটি মসজিদে ইমামতি করতো। ঈদের আগে থেকে আর বাড়িতে আসেনি সে।

প্রতিবেশি ইসরাইল হোসেন, বাবু মিয়াসহ অনেকেই জানান, রোকনুজ্জামান রোকনকে গ্রামে খুব কম দেখা যায়। এলাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ নেই। এলাকার মানুষের কাছে রোকন ভাল ছেলে হিসেবে পরিচিত।

ঝিকরগাছার শংকরপুর ইউনিয়নের নাইড়া এলাকার মেম্বর হাসমত আলী জানান, সাবেক সরকারি কর্মচারী মৃত আইনুদ্দিনের দুই স্ত্রী। দ্বিতীয় স্ত্রীর ছোট ছেলে রোকনুজ্জামান। প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা আওয়ামী লীগের সমর্থক। রোকনুজ্জামানরা বিএনপির সমর্থক। তবে তাদের পরিবারের কেউ দলীয় কোনো পদে নেই। রোকনের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে এলাকার মানুষ তাকে ভাল ছেলে হিসেবে চেনে।

জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা ইমাম রোকনুজ্জামানের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের নাইড়া গ্রামের মৃত আইনুদ্দিনের দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর ৩ ছেলে ১ মেয়ে। আর দ্বিতীয় স্ত্রীর ২ ছেলে ১ মেয়ে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ছোট ছেলে রোকনুজ্জামান রোকন। আর বড় ছেলে হাদিউজ্জামান বাগেরহাটে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। মেয়েটি মারা গেছে কয়েক বছর আগে।

রোকনুজ্জামান নাইড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর স্থানীয় উড়াকোল মাদরাসা ও যশোর শহরের দড়াটানা মাদরাসা থেকে হাফেজি পাস করেন। এরপর স্থানীয় বাগআঁচড়া মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করেন। এরপর বাড়ি থেকে চলে যান ঝিনাইদহে। সেখান থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে পড়াশুনা করতেন। পাশাপাশি একটি মসজিদে ইমামতিও করতেন।

এ জাতীয় আরও খবর

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও নিজস্ব মোবাইল নেই ৩৪ শতাংশের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে: বিরোধী নেতারা

পাপ্পু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাইটিভির সাথীকে

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজারের বেশি

কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট ১১৯৬

কাঁধের হাড় ভাঙা ও অস্টিওপোরোসিস: লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা