,

আমাদের দ্বারা পরিবর্তন সম্ভব নয়- ধরনাটা অমূলক

news-image

download

Elora Zaman –

‘আমাকে দিয়ে সম্ভব নয়’ কিংবা ‘আমাকে দিয়ে হবেনা’ প্রজন্মের জন্য এই গল্প। এক ভদ্রলোক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবার সময় কিছু হাতি দেখলেন। এদেরকে শুধুমাত্র হালকা একটি দড়ি দিয়ে সামনের পায়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। তিনি অবাক হলেন এবং ভাবলেন কেন হাতিগুলো এই সামান্য দড়িটি ছিঁড়ে পালাচ্ছে না? খুব সহজেইতো তারা এটি পারে। তিনি কাছাকাছি দেখলেন হাতিদের ট্রেইনার এক ভদ্রলোককে এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন হাতিগুলো রশিটি ছিঁড়ে পালাচ্ছে না? শুধু দাঁড়িয়ে থাকছে, এর কারণ কি?
.

ট্রেইনার ভদ্রলোক জবাব দিলেন, যখন ওরা ছোট ছিলো তখন আমরা এই আকই সাইজের রশি ব্যবহার করতাম ওদেরকে বেঁধে রাখতে এবং তারা ওটা ছিঁড়ে পালাতে পারতো না। দু একবার চেষ্টা করলেও পারতো না কারণ তারা তখন ছোট ছিলো এবং দড়িটি তাদের জন্য তখন শক্তই ছিলো। কিন্তু আজ যদিও তাদের জন্য তেমন কিছু ব্যাপার না ছিঁড়ে ফেলা। তারা মানসিকভাবে তৈরি হয়েছে এটি ভেবে যে, এই দড়ি ছিঁড়ে ফেলা সম্ভব নয় আর। তাদের দিয়ে হবেনা, এই ধারণাই তাঁদেরকে এই কাজ করা থেকে বিরত রেখেছে। তারা বিশ্বাস করে রশিটি এখনো তাদেরকে বেঁধে রাখতে পারে, তারা চেষ্টাও করেনা আর একে ছিঁড়তে।
.

লোকটি অবাক হয়ে ভাবলেন যে, এই প্রাণিগুলো যখন তখন একে ছিঁড়ে মুক্ত হতে পারে কিন্তু তারা পারছেনা কারণ এদের বিশ্বাস যে তারা পারবেনা এবং তাদের দিয়ে হবেনা। তাই তারা যেখানে আছে সেখানেই আটকে আছে।
.

এদের মতই আমরা। আমরা ভাবি আমাকে দিয়ে হবেনা, শুধুমাত্র একবার দুইবার চেষ্টা করবার পর হয়নি এজন্য এই ধারণা করে বসে আছি। ব্যর্থতা জীবনেরই অংশ। আমাদের কখনই চেষ্টা করায় বিরত থাকা উচিত নয়। তাহলে আপনি সত্যিই ব্যর্থ হিসেবে নিজেকে আবিষ্কার করবেন।
.

‘আমাকে দিয়ে হবেনা’ এই বদ্ধমূল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। আর পরিবার থেকে এই উঠে দাঁড়ানোর শিক্ষাটি দেয়া জরুরী। অথচ মধ্যবিত্ত পরিবারের চিত্র ভিন্ন। সন্তান একবার খারাপ রেজাল্ট করলে কিংবা ব্যর্থ হলে কিছুতে তারা এতটাই মানসিক প্রেশার দেন সন্তানকে যে চরম নেগেটিভ পরিবেশ তৈরি হয় এবং মারাত্মক খারাপ প্রভাব পড়ে সন্তানের উপর।
.

বাচ্চারা প্রায়ই দেখা যায় বাবার জুতো পরবার চেষ্টা করে। এরকম এক শিশু যে তার বাবার জুতো পরবার চেষ্টায় জান-প্রাণ সঁপে দিচ্ছে ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কি ব্যাপার বাবু, তুমি এটি পরবার জন্য এত কষ্ট করছো কেন? এগুলোতো অনেক বড় তোমার জন্য সোনা। সে জবাব দেয়, আন্টি আমি আব্বুর জুতো পরলে আব্বুর মত হয়ে যাই। আব্বুর মত হতে চাও কেন? কারণ, হি ইজ মাই হিরো। প্রত্যেক শিশুই বড় হয়ে তার বাবার মত হতে চায়। যদিও শিশুটি আসলে জানেনা তার বাবা ভালো কিংবা মন্দ মানুষ। সে তার বাবার মতই হতে চায়। এবং বাবাকে অনুরকরণ করে সবকিছুতে। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
.

সুতরাং একজন বাবাই পারেন পরিবেশ পজিটিভ রেখে এবং নিজে পজিটিভ থেকে সন্তানকে তদানুরুপ শিক্ষা দিতে। কিন্তু আমাদের বাবারা এইকাজ করেন না বরঞ্চ উল্টো নেগেটিভ আচরণ করে ফেলেন নিজের অজান্তে যা সন্তান ধারণ করে পরবর্তিতে এবং সে নিজেও নিজ সন্তানের সাথে ওরকম করতে থাকে এবং পরম্পরায় একটি দূর্বল সম্প্রদায় তৈরি হয়। আমাকে দিয়ে হবেনা টাইপের সম্প্রদায় এবং হতাশ জেনারেশন।
.

এবং পরবর্তি জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে, পড়াশোনায়, জবে, এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেও দেখা যায় ঐ সকল সন্তানেরাই মনে করে থাকেন যে, আমাদের দ্বারা পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমাকে দিয়ে হবেনা। সে অন্যের এগিয়ে আসবার অপেক্ষায় থাকে সমস্যা মুকাবিলায়। অন্যেরাও হয়ত তারই মত অপেক্ষা করে কারো এগিয়ে আসবার জন্য। এরপর আর একতাবদ্ধ হয়ে কোনো কিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করা হয়ে ওঠেনা। এবং দিনের পর দিন আমাদেরকে এই অসহ্য অবস্থা সহ্য করে চলতে হয় শেষে।

ছবিঃ নেট থেকে

এ জাতীয় আরও খবর

মাদক প্রতিরোধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের

প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলে ৮ শিক্ষক নিয়োগ

নির্বাচন সামনে রেখে ‘ক্লিনহার্ট’ অভিযান নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার মোবাইল ল্যাব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের জানাজা সম্পন্ন

এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

চীনের ঋণ কমিয়ে যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

নবীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

আইভীর স্লোগানের পর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ, বিমানবন্দর সড়কে যানজট

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, কাজ করছে ২০ ইউনিট