,

প্রশ্নের মুখে গ্রাম আদালদ

ডেস্ক রিপোর্ট (আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া.কম) : বাংলাদেশে ইউএনডিপি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ সহায়তায় গ্রাম আদালত প্রকল্প সফল বলে দাবি করা হলেও, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদের কথায়, বিচারের যোগ্যতা নেই এমন লোকের হাতে বিচার তুলে দেয়ার এ প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়৷

মাগুরার পবিত্র বালার একমাত্র সন্তান নিখিল মানসিক প্রতিবন্ধী৷ ৬৫ বছর বয়স্ক পবিত্র বালার নিজের মাসিক আয় এক হাজার টাকা৷ এছাড়া তাঁর প্রতিবন্ধী পুত্রও মাছ ধরে কিছু আয় করে৷ এভাবেই চলে তাদের সংসার৷ কিন্তু একদিন এক প্রতিবেশী তাদের মাছ ধরার জাল, বাই-সাইকেল এবং রিকশাভ্যান চুরি করে নেয়ায় তারা বিপদে পড়েন৷ তাদের আয়-রেজগার সব বন্ধ হয়ে যায়৷

এরপর পবিত্র বালা গ্রাম আদালতে বিচার চান৷ বিচারে তিনি ১৯ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পান৷ বলা বাহুল্য, এই ক্ষতিপূরণ পেয়ে তিনি বেজায় খুশি৷ ইউএনডিপি-র এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয় গ্রাম আদালতের বিচারের এই ঘটনা৷ পবিত্র বালা বিচার পেয়েছেন অভিযোগ করার মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে৷

বাংলাদেশে ১৯৭৬ সালে গ্রাম আদালত অধ্যাদেশ এবং বিধিমালা পাশ হলেও, ২০০৯ সাল থেকে সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেন৷ ২০১৫ সালে গ্রাম আদালতের প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের কাজ শেষ হয়৷ এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে, যা শেষ হবে ২০১৯ সালে৷

ইউএনডিপি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় এই গ্রাম আদালত পরিচালিত হচ্ছে৷ গ্রাম আদালত চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আদালতগুলোয় ৮৫ হাজার অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে৷ এরমধ্যে শতকরা ৭৮ ভাগ অভিযোগ ২৮ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, এ সমস্ত অভিযোগে নারীর অংশগ্রহণ শতকরা ৩৫ ভাগ৷ আর তাদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে৷

গ্রাম আদালতের সুবিধার মধ্যে রয়েছেন দুই কোটি ৭০ লাখ মানুষ৷ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে নতুন ১ হাজার ইউনিয়নে গ্রাম আদালত কাজ করবে৷ এই সব ইউনিয়নে প্রায় ২ কোটি মানুষের বসবাস৷ এরসঙ্গে প্রথম ধাপের ৩৫১টি ইউনিয়নের ৭০ লাখ মানুষও গ্রাম আদালতের আওতায় থাকছেন৷

গ্রাম আদালতের প্রধান হলেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান৷ তাঁর নেতৃত্বেই পাঁচ সদস্যের একটি আদালত অভিযোগের বিচার করে৷ ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়া দু’জন করে সদস্য থাকেন দুই পক্ষ (বাদি ও বিবাদি) থেকে৷ গ্রাম আদালত আইন অনুযায়ী ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে৷ এই আদালতে ফৌজদারি মামলায় চার টাকা এবং দেওয়ানি মামলায় দু’টাকা ফি৷

বাংলাদেশের সাধারণ আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে যেখানে গড়ে পাঁচ বছর সময় লাগে, সেখানে গ্রাম আদালতে একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে সময় লাগে মাত্র ২৮ দিন৷ তবে গ্রাম আদালত ছোট-খাট অবপরাধ, চুরি, বিরোধ নিষ্পত্তি ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে৷

তবে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ গ্রাম আদালতকে আদালত বলতে নারাজ৷ তিনি বলেন, ‘‘এটি একটি শালিস মিমাংসার প্রকল্প৷” তিনি গ্রাম আদলতের বিরোধিতা করে বলেন, ‘‘বিচার বিভাগের বাইরে স্থানীয় সরকার আলাদা কোনো আদালত সৃষ্টি করতে পারে না৷ তাই যারা এটা করছেন, তারা না বুঝে করছেন৷”

তিনি দাবি করেন, ‘‘বিচারের জন্য প্রশিক্ষিত নয়, এমন লোকদের হাতে কোনো বিচার ছাড়া যায় না৷ আর ইউপি চেয়ারম্যানরা তো ভবিষ্যতে দলীয়ভাবে নির্বাচিত হবেন৷ দলীয় ব্যক্তি কীভাবে বিচার করেন?”

ড. তোফায়েল আহমেদের কথায়, ‘‘বিচার প্রশাসনকে উপজেলা পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে৷ উপজেলা আদালতের অধীনে গ্রাম আদালত স্থাপন করতে হবে৷ তাহলে মানুষ এর সুফল পাবে৷” সূত্র : ডয়চে ভেলে0,,17670884_303,00

এ জাতীয় আরও খবর

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও নিজস্ব মোবাইল নেই ৩৪ শতাংশের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে: বিরোধী নেতারা

পাপ্পু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাইটিভির সাথীকে

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজারের বেশি

কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট ১১৯৬

কাঁধের হাড় ভাঙা ও অস্টিওপোরোসিস: লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা