,

অভিশাপ থেকে আস্তে আস্তে মুক্তি পাচ্ছে দেশ : প্রধানমন্ত্রী

news-image

সংসদ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ অভিশাপ থেকে আস্তে আস্তে মুক্তি পাচ্ছে। এর ফলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সোমবার দশম জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন।

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে হত্যাযজ্ঞের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে মুহূর্তে বিজয় সূচিত হতে যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে বু্দ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। কারণ বাংলাদশে স্বাধীন হলেও যেন নিজের পায়ে কখনো দাঁড়াতে না পারে, চলতে না পারে।

 

তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যা করা হল তার কারণ একটাই। কারণ তিনি এদেশের  জন্য স্বাধীনতা এনেছিলেন। আর তখন থেকেই বাংলাদেশে শুরু হল হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি।

 

তিনি আরো বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসলে, যে দল মানুষের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে,  সংগ্রাম করে- সেই দল যদি ক্ষমতায় আসে তখনই কিন্তু মানুষের উন্নতি হয়। সেটাই আমরা প্রমাণ করেছি।’ 


 
‘সংবিধান লংঘন করে জেনারেল জিয়াউর রহমান আর্মি অ্যাক্ট এবং রুল ভঙ্গ করে একাধারে সেনাপ্রধান, অপরদিকে রাষ্ট্রপ্রধান; এই দুই পদ নিয়ে একের পর এক ক্যু এবং যুদ্ধাপরাধীদের এনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছিল।

 

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে অপরাধ তারা করেছিল একাত্তর সালে, সেই অপরাধের সীমা নেই। এই বিচারের মধ্যে দিয়ে যারা এখনো স্বজন হারার বেদনা নিয়ে বেঁচে আছেন, তারা অন্তত তাদের মনটা সান্ত্বনা পাবে তারা বিচার পাচ্ছে।

 

এই বিচার যদি আমরা সম্পন্ন না করতে পারি, তাহলে এদেশ অভিশাপ মুক্ত হবে না। কাজেই বিচার এবং রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে আমি মনে করি, বাংলাদেশ যে দীর্ঘদিন ধরে অভিশাপ থেকে অভিশপ্ত হয়েছিল, আস্তে আস্তে সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে। আর মুক্তি পাচ্ছে বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, অথনৈতিকভাবে উন্নতি হচ্ছে।

 

হরতাল-অবরোধ সত্ত্বেও আমরা ৬ দশমিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। প্রায় দেড় কোটি বেকারকে আমরা কর্মসংস্থান দিতে সক্ষম হয়েছি। ৩৮ লাখের মতো বিদেশে পাঠিয়েছি। ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল সারা বাংলাদেশে করবো।  বাংলাদেশব্যাপী এই শিল্প গড়ে তুলতে চাই। তাহলেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। যে এলাকায় যে পণ্য উৎপাদন হয়, সেগুলোকে সংরক্ষণ করার বিষয়ে কাজ করবো। দারিদ্র্যের হার ১৪ ভাগে নামিয়ে আনবো। এখন আর কেউ বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পারে না।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্য হলো ২০১৩ সালে নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি আন্দোলনের নামে শত শত মানুষকে হত্যা করেছিলো। নির্বাচনকে বন্ধ করতে চেয়েছিলো। বিএনপি নেত্রী ঘোষণা দিলেন এই সরকারকে উৎখাত না করে ঘরে ফিরবেন না। উনি থাকলেন অফিসে। প্রায় ৬৫ জন মানুষ নিয়ে উনি ৩ মাস গুলশান অফিসে থাকলেন। উনি এখন পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করেন নাই। তার অবরোধ এখনও আছে।

 

‘আন্দোলন আমরাও করেছি। কিন্তু আন্দোলনের নামে মানুষকে এই ভাবে মারা, হত্যাযজ্ঞ করিনি। দেশে থেকে এই ঘটনা ঘটালো, এরপর উনি বিদেশে গেলেন। বিদেশে যাওয়ার পরই দেখি বাংলাদেশে বিদেশি হত্যা শুরু।

 

তবে এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট সক্রিয় এবং তারা কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আসামীদের যথাযথভাবে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।
 


দেশের সব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন নতুন দাবি না তুলে যে কাজগুলো আমরা করেছি, সেগুলোকে মানুষকে জানানো এবং সেই কাজগুলো যাতে বাস্তবায়ন হয়। এজন্য সবাইকে আরো যত্মবান হতে হবে। পাশাপাশি দেশের মানুষের কাছে কাজগুলো শেষ করার সময় চেয়ে সহযোগিতাও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা