,

খুলনায় স্কুলছাত্রীকে ৭ মাস আটকে রেখে ধর্ষণ, পরে হত্যা!

news-image

প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের নামে এক স্কুলছাত্রীকে ৭ মাস আটকে রেখে ধর্ষণের পর বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব ইউনিয়নের বাদামতলা গ্রামের একটি বাড়িতে আটকে রেখে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। রোববার ভোররাতে ওই স্কুলছাত্রী নগরীর নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তবে পুলিশ দেখে অভিযুক্তের বাবা-মা লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

 

নিহতের স্বজন সঞ্জিত মণ্ডল জানান, খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব ইউনিয়নের বাদামতলা গ্রামের দেবপ্রসাদ রায়ের ছেলে রাজু রায় (২০) কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের শতরূপা গ্রামের মৃত অরুণ মণ্ডলের মেয়ে তুলিকা মণ্ডলের (১৭) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরই সূত্র ধরে গত প্রায় সাত মাস আগে রাজু বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তুলিকাকে তার বাড়ি থেকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। ওই সময় তুলিকার মা ইলা রানী মণ্ডল সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরতে এবং ভাই অনুপ মণ্ডলও বাড়িতে ছিল না।

কিন্তু পরে তারা বিষয়টি জানতে পেরে রাজুর বাড়িতে যান। এ সময় তার পিতা দেবপ্রসাদ রায় জানান, তুলিকাকে তাদের পছন্দ হয়েছে, এ কারণে রাজুর সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে- একথা বলে মেয়ের পরিবারের সদস্যদের ফেরত পাঠায়। গত ৩-৪ মাস আগে ঢাকায় অবস্থানরত তুলিকার মামা সুকুমার বর্মণ বিয়ে ছাড়াই তাদের মেয়েকে আটকে রাখার বিষয়টি জানতে রাজুর বাবার কাছে ফোন করলেও তিনি একই কথা বলেন। পরে রাজুর পক্ষে জনৈক ব্যক্তি কোস্টগার্ড পরিচয় দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে তুলিকার মামা সুকুমার বর্মণকে হুমকি দেন। এরপরও একাধিকবার স্বজনরা তুলিকাকে আনতে গেলেও বারবার তারা বিয়ের কথা বলে ফিরিয়ে দেয়। দুই সপ্তাহ আগে রাজুর পিতা দেবপ্রসাদ রায় তুলিকাকে সঙ্গে নিয়ে তার স্কুলে গিয়ে এসএসসির ফরম পূরণ করিয়ে আবারও তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু তাকে ফিরিয়ে দেননি।

সর্বশেষ গত ১২ নভেম্বর তুলিকা কীটনাশক পান করেছে বলে কথিত প্রেমিক রাজু মোবাইলে তার ভাই অনুপকে খবর দিয়ে বলে, ‘তুলিকার অন্য ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, তাকে নিয়ে যান।’ এর পরদিন শুক্রবার তুলিকা দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থেকে তার মায়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে ৫ হাজার টাকা নিয়ে যেতে বলে। কিন্তু তার মা শনিবার যাওয়ার কথা বলেন।এরই মধ্যে দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তুলিকাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। কিন্তু রাজুর পিতা দেবপ্রসাদ রায় সেখানে না নিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বুকে ব্যথার কথা বলে তাকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই সে মারা যায়। নিহত তুলিকা মণ্ডল কয়রা উপজেলার এনএজিডি কান্তারাম মেমোরিয়াল হাইস্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

 

তুলির মামাতো ভাই গৌর বর্মণ ও খালাতো ভাই সঞ্জিত মণ্ডল অভিযোগ করেন, বিয়ে ছাড়াই তুলিকে দীর্ঘ সাত মাস আটকে রেখে যৌন নির্যাতন করেছে। পরে তাকে বিয়ে করবে না বলে কীটনাশক পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর স্থানীয় লাউডোব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরজিত কুমার রায় তাদের ফোন করে ঘটনাটি মীমাংসা করতে চাপ সৃষ্টি করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।


এদিকে, খবর পেয়ে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা হাসপাতালে গেলে লাশ রেখেই রাজুর বাবা-মা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, খুলনা ইউনিটের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, যেহেতু ঘটনাটি দাকোপে ঘটেছে, সে কারণে দাকোপ থানায় মামলা করা হবে। তবে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট এবং ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য পুলিশ লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

এ জাতীয় আরও খবর

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও নিজস্ব মোবাইল নেই ৩৪ শতাংশের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে: বিরোধী নেতারা

পাপ্পু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাইটিভির সাথীকে

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজারের বেশি

কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট ১১৯৬

কাঁধের হাড় ভাঙা ও অস্টিওপোরোসিস: লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা