,

বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে বাল্যবিবাহ বন্ধে

news-image

মেয়েদের বিয়ের আইনসিদ্ধ বয়স কমিয়ে আনার উদ্যোগের কারণে বাল্যবিবাহ বন্ধে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)। সরকার মেয়েদের বিয়ের বয়স কমালে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি আরো বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সংস্থাটি মনে করে, গার্ল সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাল্যবিবাহ নির্মূল করতে যে অঙ্গীকার করেছিলেন, তার সঙ্গে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ১৬ বছরে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত স্ববিরোধী।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার এইচআরডাব্লিউর নারী অধিকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ গবেষক হেদার বারের এক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত গার্ল সামিটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ বছরের নিচে আর ২০৪১ সালের মধ্যে ১৮ বছরের নিচে শিশুদের বিয়ে বন্ধের ঘোষণা দেন। তখন তাঁর এই অঙ্গীকার বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। কারণ বাংলাদেশে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে ২৯ শতাংশ মেয়েশিশুর বিয়ে হচ্ছে; বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে এই হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। আর ১৮ বছরের মধ্যে বিয়ে হচ্ছে ৬৫ শতাংশ মেয়ের। আরো ভয়ানক তথ্য হচ্ছে যে ২ শতাংশ মেয়েশিশুর বিয়ে হয় ১১ বছরের মধ্যেই।
হেদার বার বলেন, ‘এইচআরডাব্লিউ বাংলাদেশে যখন বাল্যবিবাহ বন্ধে গবেষণা করছিল, তখন আমি ১০ বছর বয়সী শিশুদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অঙ্গীকার করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করার উদ্যোগ নেয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী প্রতিবাদ জানানো শুরু করলে সরকার বিয়ের বয়স কমানো হবে না বলে আশ্বস্ত করে। কিন্তু গোপনে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ের অনুমতির জন্য একটি প্রস্তাব নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
এইচআরডাব্লিউ জানায়, সামপ্রতিক খবর হলো, এ আইনের খসড়া প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই খসড়া প্রস্তাবে একটি ধারা রয়েছে, যেখানে অসংজ্ঞায়িত ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ বছরের নিচে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এক মাস আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এরই মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে একটি পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। সেই পরিপত্রে বলা হয়েছে, মা-বাবা অথবা আদালতের সম্মতিতে ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে।
হেদার বার তাঁর প্রতিবেদনে বলেন, যে দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সন্তানের বিয়ের ব্যবস্থা করে থাকেন মা-বাবারাই, সেখানে মা-বাবার সম্মতিতে ১৬ বছরে বিয়ে দেওয়ার অনুমতি সরকার দিলে ১৬ বছরই কার্যত বিয়ের আইনসিদ্ধ বয়স হিসেবে গণ্য হবে। আবার অনেক পরিবার ভাববে, ১৬ বছরে যদি বিয়ে দেওয়া যায় তাহলে ১৬-র কম বয়সের বিয়েও সরকার ক্ষমা করে দেবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা