,

যুবলীগ নেতার দাপটে হাসপাতালে ও থাকতে পারছি না

news-image

আমিরজাদা চৌধুরী : চোখের আলো নিভে যাচ্ছে মোবারক মিয়ার (৪০)। এক চোখে কোন কিছুই দেখছেন না। হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত মোবারক এখন বাড়িতে শয্যাশায়ী। তার চিকিৎসাও হচ্ছে না। যে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন সেখানে গিয়েই হাজির হচ্ছে তার প্রতিপক্ষের লোকজন। চিকিৎসায় বাধার সৃষ্টি করছে। ডাক্তার-স্টাফদের ম্যানেজ করে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করছে। শুধু চোখই নয়, শরীরজুড়ে আঘাত-ক্ষতে বিষ-বেদনায় কাতর মোবারক।

আশুগঞ্জের তারুয়া গ্রামে গত ২৯শে সেপ্টেম্বর হামলা হয় মোবারকের ওপর। ঐদিন সন্ধ্যায় মোবারকের বাড়ির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ৮-১০ যুবক। এর প্রতিবাদ করায় গ্রামের শামসুল হক ভূঁইয়ার দোকানের সামনে রড দিয়ে পিটিয়ে, দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় তাকে। পরে পরিবারের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে গ্রামের মার্কেটের সামনে নিয়ে গেলে সেখানে আবারও হামলা চালানো হয় মোবারক ও তার পরিবারের লোকজনের ওপর। এতে আহত হয় ২৫ জন। মোবারককে মারধর করার পাশাপাশি তার ঘর থেকে গ্যাস ফিল্ড থেকে জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ পাওয়া নগদ ১০ লাখ টাকাসহ ২১ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয়া হয়। তারুয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মিয়া ছিলেন এই হামলার নেতৃত্ব্বে। ঘটনার মূল নায়ক জাহাঙ্গীরকে এক নম্বর আসামি করে থানায় এজাহার দিলে পুলিশ তাও নেয়নি। অনেক চেষ্টার পর ২৪ নম্বরে নামমাত্র আসামি হিসেবে জাহাঙ্গীরের নাম রাখতে রাজি হয় থানা পুলিশ। ৩ দিন পর এই মামলা রেকর্ড হয়। আবার মোবারকের পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরের পক্ষের দেয়া পাল্টা মামলাও নেয়া হয়। 

মোবারকের বড় ভাই হুমায়ুন মিয়া অভিযোগ করেন, ২৪ নম্বর আসামি হিসেবে সহজেই জামিন পেয়ে জাহাঙ্গীর এখন ছায়ার মতো আমাদের পিছে লেগে রয়েছে। কখনো লোক পাঠিয়ে কখনো নিজে গিয়ে হাসপাতালে মোবারকের চিকিৎসায় বাধার সৃষ্টি করছে। হাসপাতালে তার চিকিৎসার ফাইলপত্র গায়েব করার চেষ্টা করছে। তিনি জানান- ঘটনার পর মোবারককে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরদিন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সেলাই করার পরই তাকে বের করে দেয়া হয়। ওইদিন ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ছিল সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর নিরুপায় হয়ে তাকে নিয়ে আবার আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলে আসি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। এখানে ৪ঠা অক্টোবর পর্যন্ত চিকিৎসা চলে তার। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না ঘটলে ৫ই অক্টোবর আবারও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ১৪ই অক্টোবর পর্যন্ত থাকার পর আবারও ছাড়পত্র দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় বাড়িতে। মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে। আর আমরা মৃত্যু পথযাত্রী একজন মানুষকে এম্বুল্যান্সে করে বাড়িতে নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি। হুমায়ুন জানান, তাদের সহানুভূতি দেখানোর নাম করে হাসপাতালে ঢুকে জাহাঙ্গীরের লোকজন চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটাতে থাকে। রোগীর ব্যবস্থাপত্র ও পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্টের ফাইল গায়ের করার চেষ্টা চালায়। একবার ফাইল নিয়ে যাওয়ার সময় কামাল নামের একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন হুমায়ুন। পরে বের হয়ে দেখেন সে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কথা বলছে। তিনি বলেন, আমরা যাতে কেইস মামলায় কোন সুবিধে করতে না পারি সেজন্যে তারা এই তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তার প্রশ্ন, আমরা কি আমার ভাইয়ের চিকিৎসা পর্যন্ত করতে পারব না। আমরা নিরীহ মানুষ। এই অবস্থা হলে কেমনে বাঁচুম। ওই ঘটনায় হুমায়ুনও আহত হন। তিনি নিজেও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে বলেন, আমি চশমা দিয়ে চলি, লাঠি ভর করে হাঁটি। আমারে এভাবে মারতে পারলো। আমি কাউকে জীবনে মারিনি। ডায়াবেটিস থাকায় ক্ষতগুলো শুকাচ্ছে না বলে জানান। আবার শেষ বয়সে আসামির খাতায় নাম উঠাইছে। আমার জীবনে লাল কালির কোন দাগ নেই। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর জামিন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর আমাদের হয়রানি করছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই। মোবারককে বাড়িতে নিয়ে আসার পর গ্রামের শ শ লোক ভিড় করছেন তাকে দেখতে। তার শারীরিক অবস্থায় বেঁচে থাকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন আগত গ্রামের মানুষজন।

যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হলমার্কের তানভীরের নিকটাত্মীয়। তানভীর ধরা পড়ার পর তার সম্পদ মেরে জাহাঙ্গীর আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে বলে জানান গ্রামের লোকজন। এ টাকার জোরেই সে বেপরোয়া। ঘটিয়ে যাচ্ছে একের পর এক ঘটনা।

এ জাতীয় আরও খবর

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও নিজস্ব মোবাইল নেই ৩৪ শতাংশের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে: বিরোধী নেতারা

পাপ্পু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাইটিভির সাথীকে

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজারের বেশি

কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট ১১৯৬

কাঁধের হাড় ভাঙা ও অস্টিওপোরোসিস: লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা