,

শিশুদের নাক ডাকায় বিপদসঙ্কেত

news-image

চার বছরের ঋক ঘুমোনোর সময়ে প্রবল নাক ডাকত। এত কম বয়সে এমন নাক ডাকে কেন, সে নিয়ে খানিকটা অবাক হলেও ব্যাপারটাকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি ঋকের মা-বাবা।

কিন্তু কিছু দিন পর থেকে দেখা দিল আরও নানা সমস্যা। ঘুমের সময়ে মুখ বন্ধ হয় না, নিঃশ্বাসের কষ্ট, মাঝেমধ্যেই সর্দি-কাশি, খেতে অসুবিধা, গলা শুকিয়ে যাওয়া, কানে কম শোনা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে অসুস্থ হয়ে পড়তে লাগল ঋক। চিন্তিত মা-বাবা ছুটলেন চিকিৎসকের কাছে। আর তখনই জানা গেল, এই সমস্যার জন্য দায়ী একটি বিশেষ গ্রন্থি, যার নাম অ্যাডিনয়েড। ইদানীং বহু শিশুই এই গ্রন্থির নানা সমস্যায় ভুগছে।

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শিশুদের নাকের পিছনে একটু উপরের দিকে থাকে অ্যাডিনয়েড গ্রন্থি। পাঁচ বছর বয়সের পর থেকে এটি একটু একটু করে ছোট হতে থাকে এবং বয়ঃসন্ধির পরে প্রায় মিলিয়ে যায়। এমনিতে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া বা খাওয়ার সময়ে এটি নানা রকম ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করে। কিন্তু কোনও কারণে অ্যাডিনয়েড গ্রন্থি ফুলে উঠলে শিশুরা নানা ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে তাদের কথা বলার সমস্যা, কানে কম শোনা, শ্বাসপ্রশ্বাসে অসুবিধা হয়। এমনকী, টানা মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিতে হয় বলে দাঁতের গঠন খারাপ হয়ে মুখের বিকৃতিও দেখা দিতে পারে। হতে পারে ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো অসুখও।

এক্ষেত্রে অ্যাডিনয়েড গ্রন্থি অপসারণ ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা নেই। কিন্তু এ ব্যাপারে একমত হলেও অপসারণের পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ রয়েছে চিকিৎসক মহলে।

চিকিৎসকদের একাংশের মতে, অ্যাডিনয়েড গ্রন্থির অপসারণ, চিকিৎসা ভাষায় যার নাম অ্যাডিনয়েডেক্টমি, তার সর্বাপেক্ষা নিরাপদ পদ্ধতি হল ‘কোবলেশন থেরাপি’। এই পদ্ধতিতে বাইপোলার রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এনার্জির মাধ্যমে ফুলে ওটা অ্যাডিনয়েড গ্রন্থিকে সম্পূর্ণ ভাবে নির্মূল করা যায়। ফলে আর কখনও এই সমস্যা হওয়ার ভয় থাকে না। পাশাপাশি, কোবলেশন থেরাপির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এতে কোনও রক্তপাত হয় না।

ইএনটি চিকিৎসকদের মতে, ‘‘কোবলেশন থেরাপি এই মুহূর্তে অ্যাডিনয়েডেক্টমির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি। রক্তপাতহীন, যন্ত্রণাহীন এই পদ্ধতিতে সকালে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রাতের মধ্যেই বাড়ি ফিরে যাওয়া যায়।”

তবে কোবলেশন থেরাপির গুরুত্ব মানতে নারাজ ইএনটি চিকিৎসকদের অন্য একটি অংশ। তাঁদের মতে, অ্যাডিনয়েডেক্টমির প্রচলিত পদ্ধতি অর্থাৎ ফুলে ওঠা অ্যাডিনয়েড গ্রন্থিকে কেটে বাদ দেওয়াই সবচেয়ে ভাল।সূত্র : আনন্দবাজার

 

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা