,

কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

news-image

উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ’- এ কথাটি আমাদের মুখে মুখে ফেরে আজও। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি মিলিটারির ভয়াবহ অত্যাচার, নিপীড়ন আর মানুষের কান্না দেখে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন এ অমর বাণী। আজও কোনো ভয়াবহতা দেখে, রাষ্ট্রে মৌলবাদের উল্লম্ফন দেখলেই সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের মনে আসে এ চরণটি। আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধানতম কবিদের একজন শামসুর রাহমান। নাগরিক কবি অভিধায় ভূষিত এ কবির নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৬ সালের এ দিনে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কবি শামসুর রহমান স্মৃতি পরিষদ আজ সকাল ১১টায় বনানী কবরস্থানে তার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবে। জাতীয় কবিতা পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন এতে অংশ নেবে।
কবির স্মরণে তিনবাংলা লেখক ফাউন্ডেশন আজ বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের তিনটি পর্বে প্রদর্শনী, কর্মশালা, স্মৃতিচারণ, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
কবি আসাদ চৌধুরী দুপুর আড়াইটায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। ‘কবিতা তোমাকে লিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেবেন চারজন কবি-বিশেষজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কবি শামসুর রাহমানের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা ৬টায়। স্মৃতিচারণ করবেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরীসহ বিশিষ্ট লেখকরা। তৃতীয় পর্বে রয়েছে সম্মাননা এবং আবৃত্তি ও সঙ্গীতানুষ্ঠান।
কবি শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলিতে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরায় পাড়াতলী গ্রামে। আধুনিক বাংলা কবিতায় বিষয়বৈচিত্র্য ও নৈপুণ্যের কারণে তিনি দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। শামসুর রাহমানকে বিংশ শতাব্দীর তিরিশের দশকে ৫ মহান কবির পর আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। কবি শামসুর রাহমান বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছদ্মনামে সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় লিখতেন।
কবি শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে দৈনিক মর্নিং নিউজ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিছুদিন কাজ করার পর ১৯৫৭ সালেই তিনি রেডিও পাকিস্তানের অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬০ সালে তিনি পুনরায় মর্নিং নিউজে সহযোগী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।
১৯৬৪ সালের শেষের দিকে কবি শামসুর রাহমান দৈনিক পাকিস্তানের সহকারী সম্পাদক পদে যোগ দেন। সেখানে তিনি ১৯৭৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে এ পত্রিকা দৈনিক বাংলা নামে প্রকাশিত হয়। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কবি দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে সামরিক সরকারের শাসনামলে তিনি দৈনিক বাংলা থেকে পদত্যাগ করেন।
কবি শামসুর রাহমান পাকিস্তান শাসন আমলে সরকারি পত্রিকায় কাজ করা সত্ত্বেও আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের প্রতি বিদ্রুপ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারাভোগের সময় তাকে উদ্দেশ করে তিনি কবিতা লেখেন। রবীন্দ্রসঙ্গীতের ওপর পাকিস্তান সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদেও তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। কবি শামসুর রাহমানের লেখা ‘আমার দুখিনী বর্ণমালা’, ‘আসাদের শার্ট’, ‘স্বাধীনতা তুমি’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ এসব কবিতার মধ্যে তার বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ১৯৮৭ সালে এরশাদের স্বৈরশাসনের সময়ও তিনি তার প্রতিবাদী কলম চালান অব্যাহত ছিল।
তার প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যু আগে’ ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়। কাব্য, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিশুতোষ গ্রন্থসহ তার রচিত শতাধিক বই রয়েছে। সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক, জীবনানন্দ পুরস্কার, আবুল মনসুর আহমেদ স্মৃতি পুরস্কার, সাংবাদিকতার জন্য মিতসুবিশি পুরস্কার, স্বাধীনতা পদক ও আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়াও ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কবিকে সম্মানসূচক ডি লিট উপাধি দেয়া হয়।

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা