বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের পার্লামেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি

news-image

ভারতীয় সংসদের বাদল অধিবেশন এক রকম কোন কাজ ছাড়াই বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। শেষ দিনেও প্রবল হট্টগোলের জেরে লোকসভা অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করতে হয়েছে। গত ২১শে জুলাই বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছিল। কিন্তু বারে বারে অধিবেশন পণ্ড হয়ে গিয়েছে কংগ্রেসের আগ্রাসী মনোভাবের জন্য। ভারতীয় সংসদের ইতিহাসে ইতিপূর্বে সংসদের কোন  অধিবেশন এবারের মতো কাজ ছাড়াই শেষ হওয়ার নজির নেই। শুধু তাই নয়, এবারের লোকসভায় ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণও ছিল লাগাম ছাড়া। গত চার সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারেনি লোকসভা ও রাজ্যসভা। ললিত মোদিকে সহায়তা দেয়ার অভিযোগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে এবং ব্যায়াপম (নিয়োগ সংক্রান্ত) দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার দায়ে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই বারে বারে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লেগান দিয়ে এবং ওয়েলে নেমে বিক্ষাভ দেখিয়ে সভা পরিচালনায় বাধা দিয়েছে। একপর্যায়ে লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন কংগ্রেসের ৪৪ জন সদস্যের মধ্যে ২৫ জনকে ৫ দিনের জন্য বহিষ্কার করে কড়া হওয়ার বার্তা দিলেও তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বহিষ্কৃতদের পাশে দাঁড়াতে অন্য বিরোধী দলগুলিও কংগ্রেসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সভা বয়কট করেছে। স্পিকার অবশ্য জানিয়েছেন, এই কড়া পদক্ষেপ নিতে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন। তবে বিরোধীদের অনুপস্থিতিতে লোকসভায় কিছু কাজ ও প্রশ্নোত্তর পর্ব চললেও রাজ্যসভায় কোন কাজও করা যায়নি। রাজ্যসভায় সব দিন মিলিয়ে মাত্র ৯ ঘণ্টা কাজ হয়েছে। আর বিক্ষোভের জেরে নষ্ট হয়েছে ৮২ ঘণ্টা। অন্যদিকে লোকসভায় ৪৭ ঘণ্টা ২৭ মিনিট কাজ হলেও বিক্ষোভের কারণে নষ্ট হয়েছে ৩৪ ঘণ্টা ৪ মিনিট। অবশ্য সময় নষ্ট হওয়ার কারণে অতিরিক্ত ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিট অধিবেশন চালু রাখা হয়েছিল। সংসদে বিরোধীদের মোকাবিলায় সরকার তেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে অধিকাংশ বিলই সংসদে পেশ করা সম্ভব হয়নি। তবে ললিত মোদি বিতর্ক নিয়ে বুধবার বাধ্য হয়ে আলোচনা শুরু হলেও তাতে ছিল ব্যক্তিগত আক্রমণের ঝাঁজ। প্রতিবাদে কংগ্রেস সভা বয়কট করে। এমনকি শেষ দিনেও কংগ্রেস ও বিরোধীরা নানা ইস্যুতে মোদির চুপ করে থাকার প্রতিবাদে সভা বয়কট করেছে। সরকার গুড্‌স অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স (জিএসটি) বিল পেশ করলেও তা নিয়ে আলোচনা হয়নি। আর জমি অধিগ্রহণ বিলটি নানা সমঝোতার পর সরকার পেশ করতে রাজি হলেও তা সম্ভব হয়নি। শেষপর্যন্ত সেটিকে আগামী অধিবেশনের জন্য তুলে রাখা হয়েছে। তবে মোট ১০টি বিল এবারের অধিবেশনে লোকসভায় পেশ করা হলেও মাত্র ৬টি গৃহীত হযেছে। আর রাজ্যসভায় মাত্র ২টি বিল গৃহীত হয়েছে এবং ৩টি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। সভার শেষ দিনে লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন অবশ্য সদস্যদের বাধাদানের জন্য যেভাবে অধিকাংশ সময় নষ্ট হয়েছে সেজন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সকলে উদ্যোগী হবেন। মোদি ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে রেকর্ড কাজ হলেও এবারের অধিবেশন বারে বারে বাধাদানের জন্য কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে