,

তিস্তাজট খুলতে পারে আগামী সপ্তাহেই

news-image

বাংলাদেশের বহুপ্রতিক্ষিত তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে সৃষ্ট জট এবার খোলার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় রাজনৈতিক মহলের খবর,ছিটমহল বিনিময়ের সিদ্ধান্তের পর এবার তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যা নিয়ে উদ্যোগী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সে কারণে ফের একবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন তিনি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে,আগামী ১১ থেকে ১২ অগাস্টের মধ্যে দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই বৈঠকে তিস্তা ছাড়াও ছিটমহলের বাসিন্দাদের পুনর্বাসন নিয়েও আলোচনা হবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের একটি সূত্র জানায়,মোদির সঙ্গে ওই বৈঠকে ছিটমহলবাসীদের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কেন্দ্রের পক্ষ থেকে যে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, তা বাড়ানোর আবেদন জানাতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত,বিগত কংগ্রেস সরকারের আমলে তিস্তা চুক্তি নিয়ে সুর চড়ালেও বর্তমানে এই ইস্যুতে কিছুটা নরম হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। তিস্তা পানিবন্টন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে মোদি-মমতা বৈঠকের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
 ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব জানায়, নতুন নাগরিকদের পুনর্বাসনের জন্য কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩০০৯ কোটি রুপি অর্থ সহায়তা পেতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। এর আগে বাংলাদেশের সাথে প্রায় ৬৮ বছরের ছিটমহল সমস্যার সমাধান করে মোদি সরকার।
ধারণা করা হচ্ছে মোদির ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নামে পরিচিত নতুন পূর্বাঞ্চলীয় নীতিতে সফলতার জন্য মমতা ব্যানার্জির সহায়তা অপরিহার্য। আর তাই মমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটির কেন্দ্র সরকার।
ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নতুন নির্দেশ না পেলে মন্ত্রণালয় নতুন উদ্যোগ নিতে পারছে না। রাজ্যে দাবিদাওয়া নিয়ে দরবার করতে মমতা দিল্লি আসছেন আগামী রোববার। পরের দিন সোমবার তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে।
তিস্তা নিয়ে মমতা যে আগের অবস্থানে আর নেই, তা গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরে গিয়ে মমতা নিজেই তা দ্বিধাহীনভাবে জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও তিনি বলেছেন, চুক্তি করতে তিনি আন্তরিক। ঢাকা থেকে দেশে ফিরে এই সফর নিয়ে তাঁর মনোভাবের কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে জানিয়েছেন। মোদিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেছেন, সীমান্ত ও তিস্তা—দুই চুক্তিরই দ্রুত বাস্তবায়নে তিনি আগ্রহী। এ জন্য সব রকমের সহায়তা দিতে তিনি প্রস্তুত।
তিস্তা নিয়ে মমতার মনোভাব ইতিবাচক, ঢাকা সফরের এই নির্যাসটুকু ছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর মনোভাব সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ধারণা প্রধানমন্ত্রীর এখনো নেই। নয়াদিল্লিতে আগামী সপ্তাহের সেই মতবিনিময়ের পরেই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে মমতা ঢাকা গিয়েছিলেন। সেখানে মমতার ভরসা পেয়ে তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশ যে বিপুল আগ্রহী তাও জানে মোদি সরকার।
ভারতে জলসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, তিস্তা চুক্তির বিষয়গুলো নতুনভাবে খতিয়ে দেখতে হলে ফের নতুনভাবে পানিপ্রবাহের জরিপ ও সেচ এলাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। নদীটি সিকিম থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসেছে বলে সিকিমের সহযোগিতাও জরুরি। মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, নতুনভাবে নির্দেশ না পেলে তাদের পক্ষে এ নিয়ে এগোনো সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এই মুহূর্তে এক অন্য উচ্চতায় রয়েছে। সম্পর্কের খচখচানি শুধু তিস্তা চুক্তি ও সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়নে। দুটি বিষয়েই মমতার আপত্তি ছিল তীব্র। সেই আপত্তি এখন সহযোগিতায় রূপ নিয়েছে। সীমান্ত বিল কার্যকরের পর এখন তাই তিস্তা চুক্তির একটি বাতাবরণ তৈরি হয়েছে- একথা বলাই যায়।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও নিজস্ব মোবাইল নেই ৩৪ শতাংশের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে: বিরোধী নেতারা

পাপ্পু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাইটিভির সাথীকে

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজারের বেশি

কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট ১১৯৬

কাঁধের হাড় ভাঙা ও অস্টিওপোরোসিস: লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা