বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈশ্বিক উষ্ণায়নে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

news-image

বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ গত ১৯ জুন, ২০১৫ তারিখে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছিল পরিবেশের ওপর মানুষের নেতিবাচক আচরণে প্রকৃতিগতভাবেই ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তির সম্মুখীন হতে চলেছে পৃথিবীর প্রজাতিকূল। আর এই তালিকায় সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা স্তন্যপায়ীদের মধ্যে মানুষের অবস্থান প্রথমেই। তবে কি পৃথিবীর বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষেরা একদিন সত্যি সত্যিই ডাইনোসরের মতো পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে যাবে? এই গবেষণার নেতৃত্বদানকারী গবেষক স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল আর. এরিখ এবং ভিজিটিং প্রফেসর ড. জেরার্ডো সেবালোস ই-মেইলের মাধ্যমে সমকালের 'বিজ্ঞান বলয়'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রজাতির গণবিলুপ্তির ব্যাপারে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিজ্ঞানকর্মী যোয়েল কর্মকার … …     

বিজ্ঞান বলয় : আপনি কখন এবং কীভাবে ধারণা করলেন যে মনুষ্যসৃষ্ট প্রজাতির ষষ্ঠ গণ-এর বিলুপ্তি ঘটতে যাচ্ছে? এটি কি পর্যবেক্ষণগত কোনো ফল ছিল, নাকি অন্য বিষয়ে গবেষণার সময়ে এটি ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে? 
ড. জেরার্ডো সেবালোস :আমরা প্রজাতির ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তি মূল্যায়নের পরিকল্পনা করেছিলাম। আর ২০১০ সালে পল এরিখের সঙ্গে যৌথভাবে এ রকমই একটি গবেষণা প্রকাশ করি। কিন্তু এখন আমরা খুবই পরিমিত তথ্য ব্যবহার করে ফলটির মূল্যায়ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু খুবই আশ্চর্য হয়ে যাই। কেননা আমি গণ বিলুপ্তির এমন ফল প্রত্যাশা করিনি। পল আর এরিখ :বিজ্ঞানীরা গত শতাব্দী থেকেই বিলুপ্তির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। আমি সর্বপ্রথম ১৯৮১ সালে ঊীঃরহপঃরড়হ নামে একটি বই লিখি। আমাদের বর্তমান গবেষণাটি ছিল বিলুপ্তির নেপথ্য হার নির্ধারণ সম্পর্কে, যা প্রাকৃতিকভাবে ঘটা বিলুপ্তির মধ্যকার জীবাশ্ম বা ফসিল থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে বের করা হয়। আমরা গবেষণায় পেয়েছি কীভাবে বিপুল সংখ্যক প্রজাতি অস্বাভাবিক হারে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, যা কিনা ৬ষ্ঠ গণ বিলুপ্তিতে প্রবেশের ইঙ্গিতবাহী।

আপনারা এই ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তিকে সম্পূর্ণভাবে মানুষের দ্বারা সৃষ্ট বলে দাবি করছেন। কেন?
ড. জেরার্ডো সেবালোস :প্রজাতির ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তির জন্য মূলত মানুষই দায়ী। এটিই ছিল গবেষণার মূল বিষয়। প্রাকৃতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বড় জোর ৮টি প্রজাতির বিলুপ্তি ধরতে পারি। কিন্তু গত একশ' বছরে ইতিমধ্যে ৪৭৭টি প্রজাতি বিলুপ্তির সম্মুুখীন হয়েছে। এ ছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সামাজিক অন্যায্যতা, প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে সমগ্র বিচরণক্ষেত্র সম্পন্ন করা, মাত্রাতিরিক্ত স্বার্থসিদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন প্রভৃতি কারণে প্রজাতি বিলুপ্তির মতো ঘটনা ঘটবে। চায়নার উচিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক চুক্তির বিষয়ে গুরুত্বা আরোপ করা। এটিই বিপন্নপ্রায় প্রজাতির অবৈধ বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় বাজার।  পল আর এরিখ :আদৌ অন্য কোনো কারণ নেই। প্রজাতির ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তির জন্য মানুষ সম্পূর্ণভাবে দায়ী। পঞ্চম গণ বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে ডাইনোসর পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পরে প্রাকৃতিক বাছাইয়ের মাধ্যমে মানুষই সর্বোচ্চ প্রজাতি হিসেবে বর্তমানে টিকে রয়েছে। তাহলে প্রজাতির ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তির পরে ঠিক কী ঘটবে বলে আপনি মনে করেন?
ড. জেরার্ডো সেবালোস :আমরা গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করেছি, কয়েক মিলিয়ন বছর পরে পৃথিবীতে পুনরায় জীবনের বিকাশ ঘটবে। কিন্তু প্রজাতির ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তির পরে ঠিক কী ঘটবে তা আমাদের গবেষণার সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক। কারণ তখন পৃথিবীতে আমাদের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। পল আর এরিখ :এ বিষয়ে কেউই ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে না। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে আশা করি, কিছু মানুষ হয়তো এই বিলুপ্তির হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হবে। সভ্যতা বিনির্মাণে আর কোন প্রজাতি টিকে থাকবে? 
ড. জেরার্ডো সেবালোস : এটি বলা কঠিন! তবে সেই সব প্রজাতিই টিকে থাকবে, যারা মানুষের দ্বারা সৃষ্টি পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। আমরা যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিই তবে খুব শিগগিরই অধিকাংশ বৃহদাকার প্রাণীদের হারাব।
প্রজাতির ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তি রোধের কার্যকর উপায় কি রয়েছে?
ড. জেরার্ডো সেবালোস :এটি সম্ভবত কয়েকশ' বছর পরে ঘটবে। বর্তমান বিলুপ্তির হার সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত থাকা এবং আমাদের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন সব পরিবেশগত সমস্যা মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এগুলো জাতীয় নিরাপত্তাজনিত সমস্যা। তাই আমাদের এখনই সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। অপচয় করার মতো সময় আমাদের হাতে নেই। পারিবারিক পর্যায়ে আমাদের কার্বন ব্যবহার হ্রাস করতে হবে, মাংস সংরক্ষণের প্রবণতা কমাতে হবে, পানির পরিমিত ব্যবহার করতে হবে এবং কখনোই বিপন্ন প্রজাতির দ্বারা তৈরি কোনো পণ্য ব্যবহার বা ক্রয় করা যাবে না। টেকসই উন্নয়নে জনগণের জন্য প্রণীত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। আমরা যদি সত্যি সত্যিই দ্রুত কোনো উদ্যোগ না নিই তাহলে বিপর্যয় এড়াতে পারব না। কিন্তু আমি আশাবাদী, আমরা মানুষ এই বিপর্যয় চাইলে এড়াতে সক্ষম হবো।
পল আর এরিখ : আমরা কঠোরভাবে এবং দ্রুততার সঙ্গে নিজেদের অভ্যাসগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে হয়তো এটিকে রোধ করা সম্ভব। বিপুলসংখ্যক মানুষের মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশের ক্ষতিসাধনই এই বিলুপ্তির মূল কারণ। 

২০০৪ সালের দিকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রজাতির ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তি কি বর্তমান গবেষণা থেকে ভিন্নতর ছিল অথবা দুইয়ের মধ্যে কোনো সাদৃশ্য রয়েছে কি? ড. জেরার্ডো সেবালোস :উভয় ক্ষেত্রে খুবই সাদৃশ্যপূর্ণ ফল পাওয়া গেছে। শুধু পার্থক্য এটাই যে, আমরা খুব পরিমিত তথ্য ব্যবহার করেছি, কিন্তু উপসংহারে আমরা দুই ক্ষেত্রে একই জায়গায় পেঁৗছেছি। ফলে এটি সত্যিই নির্দেশ করছে যে, আমরা প্রজাতির ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তিতে প্রবেশ করছি।
পল আর এরিখ :বর্তমান গবেষণার ফল এটাই নির্দেশ করে, পূর্বতন ধারণাটি সঠিক ছিল এবং আমরা তাই বিলুপ্তির প্রান্তে পেঁৗছে গেছি।
মনুষ্যসৃষ্ট ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তি রোধে বাংলাদেশ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর কী ভূমিকা থাকতে পারে?
ড. জেরার্ডো সেবালোস :ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তি ঘটার অনেক কারণের মধ্যে একটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। যদি ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তি চলমান থাকে তবে সেটি বাংলাদেশের জন্য দুঃখজনকই বটে। কারণ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে অধিকতর ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

পল আর এরিখ :প্রাণীর আবাসন ধ্বংস করা, জলবায়ুগত ব্যাঘাত সৃষ্টি, বিভিন্নভাবে বিষাক্ততা ছড়ানো, অতিরিক্ত চাষ প্রভৃতি বিষয়ও এই বিলুপ্তির পেছনে ক্রিয়াশীল। অনুন্নত দেশগুলো ক্ষতিসাধনের ব্যাপারে উন্নত দেশের মতো এক্ষেত্রে ভূমিকা না রাখলেও তাদের জনসংখ্যা হ্রাস ও ধ্বংসের প্রবণতা কমিয়ে এনে গণ বিলুপ্তি রোধে ভূমিকা রাখতে পারে। অতি দ্রুত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করা, সর্বত্র নারীর সাম্যতা ও সুযোগ নিশ্চিত করা, আধুনিক গর্ভনিরোধক ব্যবহার, সব যৌনসক্ষম ব্যক্তি পর্যায়ে গর্ভপাতকে সমর্থন দেওয়া প্রভৃতিভাবে নিজ নিজে ক্ষেত্রে আমরা অবদান রাখতে পারি। 
এ ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে কোনো উদ্যোগে শামিল হয়েছেন? 
ড. জেরার্ডো সেবালোস :বিজ্ঞানী, মানবতা কর্মী, নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে ঞযব গরষষবহহরঁস অষষরধহপব ভড়ৎ ঐঁসধহরঃু ধহফ ঃযব ইরড়ংঢ়যবৎব (গঅঐই) নামে আমাদের একটি উদ্যোগ রয়েছে। চাইলে যে কেউ এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। হলেখক:সহকারী সম্পাদক, মহাবৃত্ত

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে