,

সরাইলে মাত্র ১দিনে প্রকল্প বাস্তবায়ন : সৌর বিদ্যুত ও অফিস খরচেই টাকা শেষ

news-image

স্টাফ রিপোর্টার সরাইল : এটা জুন মাস। তাও আবার শেষ সপ্তাহ। কাজ হউক আর না হউক টাকা তো পকেটে ঢুকাতেই হবে। তাই সরাইলে মাত্র এক দিনে বিদ্যুত গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে টিআর প্রকল্প। অফিস থেকে কমিটির ফরমেট তুলে পূরন করে জমা দেওয়ার সাথে সাথে হয়ে যাচ্ছে প্রকল্পের কাজ। কাগজ হাতে দৌড়ে যাচ্ছে হিসাব রক্ষণ অফিসে। সেখান থেকে ব্যাংকে। টাকা উত্তোলন করে আবার পিআইও অফিসে। সৌর বিদ্যুত ও অফিস খরচের টাকা দেওয়ার পরই দায়িত্ব শেষ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। তারপর হ্যাঁ হুতাশ চেচামেচি। কারন অফিস খরচ ও সৌর বিদ্যুতের জন্য পুরো টাকাই রেখে দিয়েছে পিআইও অফিস। গতকাল মঙ্গলবার সরজমিনে দেখা যায়, পিআইও অফিস, হিসাব রক্ষণ অফিস ও ব্যাংকে প্রচন্ড ভিড়। সকলের হাতে কাগজ। যে যার মত করে দৌড়াচ্ছেন। কারন কাগজটা ব্যাংকে নিয়ে গেলেই প্রকল্পের কাজ শেষ। হাতে পেয়ে যাচ্ছেন টাকা। দ্বিতীয়বার পিআইও অফিসে এসে সকলের মন খারাপ। মাঝে মধ্যে উত্তেজনা চিৎকার। জনপ্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে পিআইওকে বলছেন সবই তো রেখে দিলেন। বাকি কাজ কি দিয়ে করব। গাড়ি ভাড়া ঋন করে বাড়ি যেতে হবে না তো! পিআইও অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচীর আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্যের অনুকূলে সরাইল উপজেলায় ১৫০ টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩৮ লাখ ও তৃতীয় পর্যায়ে ৭৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ২১ লাখ ৮৬ হাজার ১৩৪ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। প্রকল্প গুলি এমপি অনুমোদন করেন ২৫ মে ও ১৪ জুন ২০১৫ খ্রীষ্টাব্দে। অফিসে ঝুলানো হয় এক সপ্তাহ আগে। তাই গত দুইদিন ধরে মাত্র একদিনে সম্পন্ন হচ্ছে প্রকল্প। তবে এবার প্রকল্প ভোগীদের মুখে হাঁসি নেই। কারন অন্য কোন কাজ নেই শুধু সৌর বিদ্যুতায়ন। রাস্তায়, মন্দির ও ঈদগা’র মাঠে দেওয়া হয়েছে সৌর বিদ্যুতায়ন প্রকল্প। সৌর বিদ্যুতের টাকা নিচ্ছেন পিআইও অফিস। তারা ২৫ হাজার টাকার প্রকল্পে ১৬-১৮ হাজার, ৩০ হাজারে ১৮-২১ হাজার, ৪০ হাজারে ২০-২২ হাজার, ৫০ হাজারে ২৪-২৬ হাজার ও ৬০ হাজার টাকার প্রকল্পে ৪০-৪২ টাকা করে কেটে রাখছেন। অফিস খরচ ৩-৫ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন। এখনো কোথাও সৌর বিদ্যুত না লাগলেও প্রকল্পের কাজ কাগজে কলমে কমপ্লিট। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারন লোকজন বলছেন, সৌর বিদ্যুতের জন্য আমাদের কাছ থেকে দ্বিগুনেরও বেশী টাকা নেওয়া হচ্ছে। নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুসা উসমানী মাসুক অফিসে বসে পিআইও’র উপস্থিতিতে চিৎকার করে অভিযোগ করে বলেন, মাত্র ৮ হাজার টাকার সৌর বিদ্যুতের জন্য আপনারা ২০-৩০ হাজার টাকা করে রাখছেন। সাধারন লোকজন যাবে কোথায়। এরপর আবার আমাদের নামে লিখে রাখেন ২০/২৫/৩০ হাজার টাকা বকেয়া। কিছু বুঝি না। আপনারাই সব রেখে দেন। কাজের দরকার নেই। কালিকচ্ছ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ তকদির হোসেন বলেন, কি কাজ করব। পিআইও কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। সর্দার মোঃ ইউসুফ মিয়া বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষে উপজেলা থেকে ঋন করে বাড়ি যেতে হবে। “ স্বল্প নোয়াগাঁও উত্তর জামে মসজিদ” প্রকল্পের সভাপতি মোঃ আহাম্মদ হোসেন বলেন, তিন বছর ঘুরে ২৫ হাজার টাকার প্রকল্প পেয়েছি। খরচ ১৮ হাজার ৫’শ। অফিস আদালতে দিয়েই সব শেষ। হিসাব অফিসে কত দিতে হবে জানি না। কারন এখানে টাকা ছাড়া ফাইল চলে না। ধল্লা বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতি আক্ষেপ করে বলেন, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার প্রকল্পে ১লাখ ২১ হাজার ৪’শ টাকা রেখে দিল। কাজ করব কি দিয়া। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম মিয়াজী বলেন, সৌর বিদ্যুতে ওয়াটের বিষয় রয়েছে। বেশী ওয়াটের বেশী দাম।
        

 

এ জাতীয় আরও খবর

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও নিজস্ব মোবাইল নেই ৩৪ শতাংশের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে: বিরোধী নেতারা

পাপ্পু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাইটিভির সাথীকে

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজারের বেশি

কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট ১১৯৬

কাঁধের হাড় ভাঙা ও অস্টিওপোরোসিস: লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা