,

মাতিয়ে দিলেন রুনা

5c1ac10804297110543b2a2885e158cd-21বিনোদন প্রতিবেদক : অনুষ্ঠান শুরু হলো সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। চারজন তরুণ শিল্পীকে নিয়ে মঞ্চে এলেন রুনা লায়লা। পরিচিত ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’ গানটি দিয়ে শুরু হলো সংগীতের ঝরনাধারা। নীল শাড়ি পরা শিল্পীকে দেখে মনে হচ্ছিল, তারুণ্য এখনো তাঁর নিত্যসঙ্গী। গান শেষে এই চার তরুণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন দর্শকদের।

এবার মঞ্চে এলেন রুনা লায়লার স্বামী চিত্রনায়ক আলমগীর। এলেন শিল্পী ফেরদৌসী রহমান, আরটিভির চেয়ারম্যান মোর্শেদ আলম, প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশিক রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তাঁরা সবাই মিলে কেক কাটলেন। ফেরদৌসী রহমান বললেন, ‘ছোট থেকেই ওকে দেখে আসছি। শুরু থেকেই ও দাপটের সঙ্গে গেয়ে আসছে। আরও গাইবে। ওর ভিত্তিটা মজবুত। আমরা সবাই ওকে নিয়ে গর্বিত।’

কেক কাটা হয়ে গেলে রুনা লায়লা সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে গান শুরু করেন। আর শুরুতেই দর্শকদের উদ্দেশে বললেন, ‘আপনাদের কিন্তু আমার সঙ্গে নাচতে হবে। দ্রুতলয়ের ‘ইস্টিশনের রেলগাড়িটা, মাইপা চলে ঘড়ির কাঁটা’ গানটি যখন গাইছেন রুনা, তখন মঞ্চে উঠে আসেন শিল্পী শাকিলা জাফর। তিনিও গাইলেন, নাচলেন রুনা লায়লার সঙ্গে। দ্বিতীয় গান পরিবেশনের সময় রুনা মঞ্চে ডেকে নিলেন আবিদা সুলতানাকে। এরপর খানিক স্মৃতিচারণা। ১৯৭৫ সালের দিকে রুনা লায়লা গিয়েছিলেন ভারতে, গান রেকর্ড করতে—‘সাধের লাউ বানাইল মোরে বৈরাগী’। গানটি রেকর্ড শেষে ফিরে আসেন দেশে। পরে আবার যখন তিনি ভারতে যান, তখন ইমিগ্রেশন অফিসার পাসপোর্ট দেখে বলেন, ‘দিদি, আপনি কি সেই সাধের লাউ?’

সাধের লাউ গানটি করার সময় রুনার সঙ্গে যোগ দেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী অঞ্জনা। অঞ্জনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোমর দোলালেন রুনাও। পরের গানের সময় মঞ্চে ডেকে নিলেন খুরশীদ আলমকে। খুরশীদও নাচলেন ‘পান খাইয়া ঠোঁট লাল করিলাম’ গানের সঙ্গে।

এর পরের গানটির শব্দ পরিবর্তন করে চমকে দিলেন দর্শকদের। ‘বন্ধু, তিন দিন এইখানে আইলাম, তালি শুনলাম না, চিৎকার শুনলাম না।’ আর কি দর্শক চুপ থাকতে পারে? শুরু হলো তালিবর্ষণ, চিৎকার! এবার রুনার সঙ্গী হলেন শিল্পী রফিকুল আলম। রুনা মজা করে বললেন, ‘রফিক ভাই, তিন দিন আপনার বাড়ি গেলাম, দেখা পাইলাম না।’ রফিকুল আলমও গাইলেন, নাচলেন।

এভাবেই এগিয়ে যেতে থাকে অনুষ্ঠান। ‘যেজন প্রেমের ভাব জানে না,’ ‘দে দে পেয়ার দে’ ও ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ গানগুলো পরিবেশিত হতে থাকে।

রুনাময় এই অনুষ্ঠানে তিনি যখন গাইছিলেন ‘ও মেরে বাবুলাল’, তখন মঞ্চে তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন তরুণ শিল্পী কনা আর দিঠি। ‘এই বৃষ্টি ভেজা রাতে’, ‘যখন থামবে কোলাহল’ গানগুলোতে দর্শকদের হাততালিই প্রমাণ দিচ্ছিল, শিল্পী কতটা জনপ্রিয়।

‘যখন আমি থাকব নাকো’, ‘চঞ্চলা হাওয়া রে’, ‘পরদেশী মেঘ রে’, ‘দামা দাম মাস্ত্ কালান্দার’ গাইলেন। ‘দামা দাম মাস্ত্ কালান্দার’ গাওয়ার পর মঞ্চে এলেন আলমগীর। এলেন রুনার ছোট ভাই। রুনা নিজের কথা বললেন। অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বললেন, ‘সংগীতজীবনের ৫০ বছর পার করছি। আমার জীবনের একটা মাইলস্টোন যেন সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারি, সে জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন। বিষয়টি আমার জন্য অনেক আনন্দের।’ স্মরণ করলেন মা-বাবাকে। বললেন, তাঁদের জন্যই তিনি আজকের রুনা হতে পেরেছেন। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন করাচিতে। এরপর বাংলাদেশে আসেন। গান করেন। বোন দিনা লায়লার কথা স্মরণ করে কাঁদলেন শিল্পী, কাঁদালেন উপস্থিত দর্শকদের।

গতকাল শুক্রবার রাতে ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমের আয়োজনটি সব দিক থেকেই ছিল আলাদা। গান গেয়ে ৫০টি বছর পার করেছেন তিনি। হল অব ফেমের দর্শকদেরও বঞ্চিত করেননি কাল সন্ধ্যায়। ‘গোল্ডেন জুবিলি সেলিব্রেশন অব রুনা লায়লা’ উৎসবটি আয়োজন করেছে এনটোরেজ এন্টারটেইনমেন্ট।

রুনা লায়লার পরিবেশনার পর উপস্থাপনার দায়িত্ব নিয়ে মঞ্চে আসেন নাভীদ মাহবুব। এরপর আসেন ফাওয়াদ খান। দর্শকের সঙ্গে কথোপকথনে নিজের কাজ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন ফাওয়াদ। ছিলেন গায়ক সংগীতশিল্পী কৃষ্ণ কুমার কুন্নাথ (কেকে)। কেকের পরিবেশনায় ছিল ‘ক্যায়া মুজে প্যায়ার হে’, ‘হাম দাম সোনিয়ারে’র মতো জনপ্রিয় হিন্দি গান। তাঁদের উপস্থাপনা বা পরিবেশনা তো ভালো লেগেছে দর্শকদের, কিন্তু রুনা লায়লার বর্ণাঢ্য উপস্থিতির কাছে আর সবই ম্লান হয়ে গেছে।

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা