,

মহর্ষি মনোমোহন দত্তের ১৩৭তম জন্ম বার্ষিকী

Nabinagar-24-01-2015আবু কামাল খন্দকার : রবিবার মলয়া গানের রচয়িতা সাধক কবি মনোমোহন দত্তের ১৩৭ তম জন্মবার্র্ষিকী। এই উপলক্ষে কবির নিজ জন্মভুমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া গ্রামের বেলতলায় আয়োজন করা হয়েছে ৩ দিনব্যাপী মলয়া গানের আসর। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের কয়েকটি দেশের ভক্তবৃন্ধ উপস্থিত হবে বেলতলায়।
 সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মহর্ষি মনোমোহন দত্তের পূর্বপুরুষ ঢাকা সোনারগাঁয়ের জমিদার রাজবল্লভ দত্ত। জমিদারি মোহ ত্যাগ করে তিনি চলে আসেন সাতমোড়া গ্রামের সংগীত প্রিয় ও শ্যামা সংগীতের রচয়িতা রাজবল্লবের পুত্র বৈদ্যনাথ দত্তের কাছে। তিনি পেশায় ছিলেন একজন কবিরাজ, আধ্যাত্মবাদে সমর্পিত প্রাণ। তিনি মৃত্যুর সাতদিন আগেই নিজের মৃত্যুর দিনক্ষণ বলে গিয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করেন বক্তবৃন্দ।
মনোমোহন দত্তের জন্ম ১২৮৪ বাংলা সালের ১০ মাঘ। মৃত্যু ১৩১৬ বাংলা সালের ২০ আশ্বিন। বেঁচে ছিলেন মাত্র ৩২ বছর। এই স্বপ্লআয়ুতে অধ্যাত্মবাদ আর মরমী সাহিত্যে তিনি যে পথ অতিক্রম করে গেছেন তা বিস্ময়ের ব্যাপার। মহর্ষি মনোমোহন ছিলেন রামজীবন চক্রবর্তীর পাঠশালার একজন কৃতী ছাত্র। তিনি ছাত্রবৃত্তি লাভ করেন শৈশবেই। প্রাথমিক স্তর পেরিয়ে তিনি ভর্তি হন মুরাদনগর হাইস্কুলে। কিন্তু সংসারে চরম দারিদ্রের কারণে ভর্তির ৬ মাস পরই বিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু শিক্ষার প্রতি ছিল অপার আগ্রহ। তাই এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে যান ত্রিপুরার কেন্দুয়া গ্রামে। সেখানে পুনরায় ভর্তি হন স্কুলে। সেখানেও তার লেখাপাড়া হলোনা। ইচ্ছে হলো, মোক্তারী করবেন। কিন্তু আইনের মারপ্যাঁচের মত জটিল বিষয়ে তিনি মনোযোগী হতে পারলেন না।
তারপরই জীবনে পরিবর্তনের ধারা সূচীত হলো। আত্মদর্শনের প্রতি ঝুঁকলেন। ১৮ বৎসর বয়সে কালিকচ্ছের সাধক পুরুষ  বলেছিলেন যে, ‘এই শিশু একদিন মহাপুরুষে পরিণত হবে।’ ১৩০৭ সালের ১১ই বৈশাখ তিরোধান করলেন শ্রী শ্রী আনন্দ স্বামী। দুঃখ আর হতাশাগ্রস্থ মনোমোহন দত্ত ছুটে গেলেন মাইজ ভান্ডারের বিখ্যাত পীর আহমদ উল্লাহ শাহ্রে কাছে। পীর সাহেব তাঁকে বললেন, ‘তোর পক্ষে সংসার করা হবে না। তুই ফিরে যা সাতমোড়া গ্রামে। সেখানে গিয়ে পরমাত্মার সাধনা কর।’ মনোমোহন দত্ত ফিরে এলেন নিজ ভূমিতে। গ্রামের বাড়ির আঙ্গিনায় অবস্থিত বেলতলার নিচে বসে শুরু করলেন তপস্যা। শুধু ধ্যান আর ধ্যান। এসময়েই তাঁর মধ্যে অলৌকিক কাব্য প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মুখে মুখে রচনা করতে শুরু করলেন গান। তৈরি করেন মলয়া সংগীত। তাঁর সাথে ছিলেন শিবপুরের ওস্তাদ আফতাব উদ্দিন খাঁ, কাঁঠালিয়া গ্রামের লবচন্দ্র পাল এবং ফকির মুনছর আলী, আলতাপ আলী ও রমজান আলী। তাঁর রচিত মলয়া সংগীতের সুরালোরূপের দায়িত্ব নিলেন ফকির আফতাবউদ্দিন খাঁ। আফতাবউদ্দিন সুর করে মলয়া গান মহর্ষি মনোমোহনের আশ্রম সহ বিভিন্ন আসরে গেয়ে শোনাতেন।
আরবী, কোরআন, বাইবেল ও সংস্কৃত ভাষায় তাঁর ছিল অভাবনীয় দক্ষতা। তাঁর রচিত মলয়া গানের সংখ্যা মোট ৪২৬টি। তন্মধ্যে মলয়া কাব্যগ্রন্থের ১ম খন্ডে ২৮৭টি এবং ২য় খন্ডে ১৩৯টি গান রয়েছে।          


    

 

এ জাতীয় আরও খবর

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও নিজস্ব মোবাইল নেই ৩৪ শতাংশের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে: বিরোধী নেতারা

পাপ্পু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাইটিভির সাথীকে

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজারের বেশি

কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট ১১৯৬

কাঁধের হাড় ভাঙা ও অস্টিওপোরোসিস: লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা