,

দেশে ফিরে ঘরবন্দী ইমরুল

6df78857411cc87f9d63e7f9f0b8484e-Untitled-2সেই রাতেও ঘুমিয়েছেন ঠিকঠাক। সকালে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়েই আঁতকে উঠলেন নিজেকে দেখে! ‘শরীরজুড়ে দেখি ছোট-বড় অসংখ্য ফুসকুড়ি। বুকজুড়ে, গলা পর্যন্ত। অনেক ব্যথাও। নিজেকে দেখে নিজেই ভয় পাচ্ছিলাম’—মুহূর্তটির কথা মনে করে কালও যেন শিউরে উঠলেন ইমরুল কায়েস। তিনি নিজে, দলের অনেকেই ইবোলা মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। পরে অবশ্য জানা যায়, তেমন কিছু নয়।

বাংলাদেশ দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ফিরবে আগামীকাল। তবে ইমরুল ফিরেছেন গত পরশু। ফিরেই বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরীর সঙ্গে গিয়েছিলেন অ্যাপোলো হাসপাতালে। চিকিৎসকেরা দেখে বলেছেন, ছত্রাক সংক্রমণ আর অ্যালার্জি মিলিয়েই অমনটা হয়েছিল। ছত্রাক সংক্রমণের মূল কারণ ঘাম। ক্রীড়াবিদদের শরীরের যে জায়গাগুলো বেশি ঘামে, সেখানে অনেক সময় সংক্রমণ হতে পারে। ইমরুলেরও হয়েছে তাই। অ্যালার্জির কারণটা অবশ্য অজানা। ডাক্তার দেবাশিস বললেন, ‘ইমরুল নাকি ওই রাতে গরুর মাংস খেয়েছিল। সে তো আগেও খেয়েছে! হয়তো আবহাওয়া-পরিবেশ মিলিয়ে কোনো কারণে অ্যালার্জি হয়েছিল।’ যা-ই হোক, ইমরুল এখন শঙ্কামুক্ত। রোদ আর ঘাম থেকে বাঁচতে আপাতত এক সপ্তাহ তাঁকে ঘরবন্দী থাকতে হবে। সঙ্গে চলবে ওষুধ।

ফুসকুড়িগুলো এমনিতেই কমে গেছে। ডাক্তার দেবাশিস জানালেন, সতর্কতার জন্যই ঘরবন্দী করে রাখার ব্যবস্থা, ‘ওই জায়গাগুলোয় রোদ লাগলে আর ঘেমে গেলে আবার সমস্যা হতে পারে। এমনিতে আর সমস্যা নেই। কিছু ওষুধ দেওয়া হয়েছে, ৭-১০ দিন খেতে হবে। একটি ওষুধ খেতে হবে এক মাস। এক সপ্তাহ পর আশা করি অনুশীলনে ফিরতে পারবে। দাগটাগ পুরোপুরি যেতে মাস খানেক সময় লাগতে পারে। তবে তত দিন খেলে যেতে পারবে।’

যেদিন সকালে নিজেকে ফুসকুড়ি-আক্রান্ত আবিষ্কার করলেন ইমরুল, সেটি প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন। ওই অবস্থা দেখে টিম ম্যানেজমেন্টকে দেখালেন, ডাক্তারও দেখানো হলো। ফলোঅনে পড়া বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছিল সেদিন। ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ইমরুলও, ‘কী করব, ব্যাটিং তো করতে হবে! প্রথম ইনিংসে ব্যাট করেছি, দলের অবস্থাও ছিল খারাপ। অস্বস্তি ছিল, শরীরটা দুর্বলও ছিল অনেক।’ ব্যাটিং করায় অবস্থা আরও খারাপ হয়। শেষ দিনে আর মাঠেই যাননি। দু-দুজন চিকিৎসক দেখিয়ে অবশ্য টিম ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত হয় যে, ওটা ইবোলা নয়। দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্তও হয়েছিল। তবে যাত্রাপথে যেহেতু অনেকগুলো ট্রানজিট, ইবোলা সন্দেহে ঝামেলায় পড়তে পারেন ভেবে পাঠানো হয়নি তখন। অবশেষে দেশে ফিরেছেন দলের তিন দিন আগে।

মজার ব্যাপার, সিরিজে ইমরুল সর্বোচ্চ রান করেছেন ওই রোগাক্রান্ত শরীরে খেলা ইনিংসেই। ৯১ মিনিট উইকেটে থেকে করেছিলেন ২৫। ভুতুড়ে ওই রোগের আগে ব্যাট হাতেও ইমরুলের সিরিজটা কেটেছে ভুতুড়ে। তিন ওয়ানডেতে করেছেন ৯, ১ ও ১। একমাত্র টেস্টের ১ম ইনিংসে ৯। পারফরম্যান্সে হতাশ ইমরুল নিজেও, ‘অনেক দিন পর ফিরে শ্রীলঙ্কা সিরিজে সেঞ্চুরি করেছিলাম। এই সিরিজটাও ভালো করার আশা ছিল। পারিনি বলে হতাশ। আসলে প্রথম ম্যাচটাই ঝামেলা করল। ওই ম্যাচে রানআউট হওয়ার পর আর কিছুই পক্ষে আসছিল না।’

দলের বাজে পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছেন না ইমরুলও, ‘অনেক আলোচনা করেছি আমরা। জানি কী করা উচিত। কিন্তু বারবার হচ্ছে না। ওয়ানডে সিরিজে জয়ের মতো অবস্থা থেকে হেরে গেছি। ভাগ্যটাও ভালো যাচ্ছে না। জানি না আসলে কারণ কী বলা উচিত। আশা করি, একটা বড় জয় পেলে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে দলের।’

এশিয়াডে সোনা জিততে পারলে খানিকটা ফিরতে পারে আত্মবিশ্বাস। সেই মিশনে আছে ইমরুলের নামও। ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ইনচন রওনা হবে ক্রিকেট দল। ইমরুলের লড়াই এখন তার আগেই সুস্থ হওয়া।

এ জাতীয় আরও খবর

মোহাম্মদপুর গৃহায়ণ প্রকল্পে অনিয়ম, ফ্ল্যাট বরাদ্দের তথ্য উন্মোচন

৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না ঢাকার যেসব এলাকায়

এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হলেন খোন্দকার মোরতাজুল করিম

সংকট সমাধানে দরকার রাজনৈতিক উদ্যোগ

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে: পাকিস্তান

ম্যারাডোনার মামলায় চিকিৎসা পরীক্ষার ফল নিয়ে ভুল স্বীকার

ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি

সংসদ অধিবেশন ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনসমর্থন কমেছে, রেকর্ড নিম্নে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে ইউএনডিপি

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুদ আছে