হামলা হলে সীমাহীন জবাব দেবে ইরান: খামেনি
অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় দেশটির সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে দ্রুত ও কার্যকর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রাখতেও সামরিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন খামেনি। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত মার্চে বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোজতবা খামেনি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। শুক্রবার কাতারের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। শনিবারও এ আলোচনা চলার কথা রয়েছে।
এদিকে কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিটি দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ না হলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েকটি শর্ত বা প্রতিশ্রুতির প্রস্তাব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয় রয়েছে। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর প্রস্তাবে তেহরান আগে থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর নির্দেশ দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভ্যান্সের পাঠানো চিঠির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানে চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত করা।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে গত জুনের সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাতগুলোতে যুদ্ধবিরতির বিষয়ও তেহরানের দাবির তালিকায় রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি।
এদিকে ইরানের সংবাদপত্র ‘জমহুরি-এ ইসলামি’ এক সম্পাদকীয়তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও আলোচনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেছে পত্রিকাটি। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, যুদ্ধকে ইরানের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।











