ইয়েমেনে অভিযানে ১,৮৬০ হুথি হতাহত: সরকারের দাবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইয়েমেনে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। অভিযানের শুরু থেকে ১ হাজার ৮৬০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেন সরকার।
বৃহস্পতিবার দেশটির সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ২ হাজার ১০৩টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি গত রোববার এই সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন। এর ঘোষিত লক্ষ্য রাজধানী সানাসহ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধার করা। ইরান-সমর্থিত হুথিরা ২০১৪ সাল থেকে সানা নিয়ন্ত্রণ করছে।
সম্প্রতি বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের কৌশলগত গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় ইয়েমেনের সাম্প্রতিক লড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার ইয়েমেন সরকারের মিত্র বাহিনী বাব আল-মান্দেবের কাছাকাছি এলাকা ও মোচা শহরের আশপাশে অভিযান শুরু করে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে হুথিরা মোচা শহর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, বুধবার ইয়েমেনের সাদা, হোদেইদাহ, আল-জউফ ও মারিব অঞ্চলে হুথিদের ৮২টি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাঁটি, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম ছিল বলে জোটের দাবি।
সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলার পর পাল্টা অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই বিমানবন্দরে হামলায় মোট তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কিং খালিদ বিমানবন্দরে একজন নিহত ও আটজন আহত হন। আবহা বিমানবন্দরে হামলায় দুজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে হুথি যোদ্ধাদের হতাহতের যে সংখ্যা দাবি করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।











