যাদুটোনার অভিযোগে তিন নারীকে মারধর, পরানো হলো জুতার মালা
অনলাইন ডেস্ক : নাটোরের গুরুদাসপুরে যাদুটোনা করার অভিযোগ তুলে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়িকে মারধরের পর গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে গয়না নিয়ে নেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার বিকেলে পৌর সদরের চাঁচকৈড় গারিষাপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ইয়ারুল হক ও তার ভাই জিয়ারুল হকের পরিবারের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাড়াশিয়াপাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী পিন্টু মিয়ার মেয়ে তৃষা খাতুনের সঙ্গে মজনু মিয়ার ছেলে রাতুল ইসলামের বিয়ের কথা চলছিল। পরে পিন্টু তার মেয়েকে শিকারপুর গ্রামে বিয়ে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতুলের সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়। পরে রাতুল ইয়ারুল হকের মেয়ে ঐশীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর ঐশী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তাকে যাদুটোনা করা হয়েছে—এমন ধারণা তৈরি হয়। এর জেরে ঘটনার দিন ইয়ারুল ও জিয়ারুলের পরিবারের লোকজন তৃষা, তার মা বুলবুলি খাতুন ও নানি জুলেখা খাতুনকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, পরে তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ না করার শর্তে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তাদের সঙ্গে থাকা গয়নাও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। থানায় গেলে আরও বিপদ হবে বলেও ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে পিন্টুর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তার স্ত্রী বুলবুলি খাতুন ঘটনার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার অভিযোগ, ইয়ারুল ও জিয়ারুলের সঙ্গে রাতুল ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও মারধরে অংশ নেন এবং পরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন।
এর আগে স্থানীয় কবিরাজ আমিরুল ইসলামকেও ইয়ারুল ও জিয়ারুল মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক আলী, হাবিল উদ্দিনসহ কয়েকজন জানান, পিন্টুর পরিবারের বিরুদ্ধে যাদুটোনার অভিযোগ তুলে তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ইয়ারুল হক বলেন, তার মেয়ে যাদুটোনার কারণে অসুস্থ হয়েছেন বলে তারা মনে করেন। এ কারণেই গ্রামের লোকজন পিন্টুর পরিবারের সদস্যদের ডেকে আনেন এবং জুতার মালা পরিয়ে ঘোরান। তবে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।











