মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ, তা সত্ত্বেও বেঁচে আছেন নারী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের টেনাসি অঙ্গরাজ্যে এক নারী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য শরীরে পরপর দুই সিরিঞ্জ বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করার পরও তিনি বেঁচে গেছেন। চরম যন্ত্রণা ও শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে আইনি আদেশে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাজা পাওয়া ওই নারীর নাম ক্রিস্টিয়া পাইক। তিনি ১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে এক সহপাঠীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হন। দীর্ঘ ৩২ বছর বন্দিজীবন কাটানোর পর বুধবার তাঁর মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। টেনাসি রাজ্যে গত দুই শতকের মধ্যে ক্রিস্টিয়াই প্রথম নারী, যাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল।
এই সাজা কার্যকর ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ক্রিস্টিয়া বিষাক্ত ইনজেকশনের বদলে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলির মাধ্যমে মৃত্যুর আকুতি জানালেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। সাজা কার্যকরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে ষষ্ঠ সার্কিট আপিল আদালত এটি স্থগিত করলেও সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তীতে সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করেন। এরপরই তাঁর শরীরে বিষাক্ত তরল প্রয়োগ করা শুরু হয়।
আইনজীবী ও এপির তথ্যমতে, ‘পেনটোবারবিটাল’ নামের বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করার পর ক্রিস্টিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেললেও তাঁর হৃদস্পন্দন থামেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে তিনি যন্ত্রণায় গোঙাতে ও ছটফট করতে থাকলে তাঁদের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। দীর্ঘক্ষণ পার হলেও প্রাণ না যাওয়ায় ক্রিস্টিয়ার আইনজীবীরা দ্রুত আদালতের জরুরি মোশন এনে ইনজেকশন দেওয়া বন্ধ করেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আবেদন জানান।
বিবিসি জানিয়েছে, ঘটনার পর নাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট থেকে তাঁকে অতি দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বর্তমানে তাঁকে জরুরি জীবনরক্ষাকারী আইসিইউ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।











