,

কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল খুঁজছে পুলিশ

news-image

অনলাইন ডেস্ক : কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান, আটক বা গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও কার্যকর পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে পুলিশ। এ জন্য দেশজুড়ে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে বহুমুখী কৌশল নির্ধারণে প্রস্তাব তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর এ বিষয়ে একজন ডিআইজিকে সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্রাইম জোন ও গোয়েন্দা পুলিশের ডিসিদের নিয়ে সদর দপ্তরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের বিদ্যমান তালিকা হালনাগাদ করার কাজও শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই সারাদেশে কিশোর গ্যাংবিরোধী বড় পরিসরের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে কুমিল্লাসহ পাঁচ জেলায় বিশেষ অভিযান চলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চুরি ও মারামারির পাশাপাশি হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক, অপহরণ, ডাকাতি, জমি দখল ও ভাড়াটে হিসেবে হামলার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে। বিভিন্ন অভিযানে তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।
কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অপ্রতিম নিহত হওয়ার পর কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়। জেলার ১৮ থানায় প্রথম দফার অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তী দুই দফায় আরও ২৫৪ ও ৪১৫ জন আটক হন। তিন দফায় মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৩ জন।
রোববার চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামেও অভিযান চালানো হয়। চাঁদপুরের আট উপজেলায় ৩৭০ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ৩৫৫ জনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের ছয় থানায় ২৬৬ জন এবং ফেনী শহরে ৩৮ কিশোরকে আটক করা হয়। একই দিনে চট্টগ্রাম জেলার ১৭ থানায় অভিযান চালিয়ে ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এ কাজে যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে কিশোরদের অপরাধে ব্যবহার করা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি, পৃষ্ঠপোষক, অর্থদাতা ও অপরাধচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের বৈঠকে বিদ্যমান আইনে পরিবর্তন, প্রয়োজনীয় সংযোজন কিংবা নতুন আইন করার প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের বর্তমান তালিকা হালনাগাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ১৫৮টি গ্রুপে ১ হাজার ২১৯ সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধের রেকর্ড না থাকা কিশোরদের সতর্ক করে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর অপরাধে জড়িতদের নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সামারি ট্রায়ালেও সাজা দেওয়া হচ্ছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধকে শুধু কিশোরদের সমস্যা হিসেবে দেখলে এর পেছনের পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী বা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে কিশোরদের ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। তাই কিশোরদের পাশাপাশি তাদের পেছনে থাকা ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার বাইরে থাকা তরুণদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

এ জাতীয় আরও খবর

নরম হয়ে যাওয়া ভাত ঝরঝরে করার সহজ উপায়

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, এমপির জামাতা গ্রেপ্তার

রাড্ডা ক্লিনিক চালুতে ৫০ লাখ টাকা অনুদান জামায়াতের

মধ্যরাতে ছাপাখানা পরিদর্শনে শিক্ষামন্ত্রী, দেখলেন পাঠ্যবইয়ের মান

ওয়েজ বোর্ড ও সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার

চীন-আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

দখল-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার

সুশান্তের পোস্টমর্টেম নিয়ে ৬ বছর পর বোনের নতুন দাবি

বাংলাদেশের বিশেষায়িত ওষুধে শুল্ক ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র

গাফিলতির ঘাটতি পূরণে সাধারণভাবে মামলা রিমান্ড নয়: হাইকোর্ট

বিয়ের বিষয়ে কেয়া পায়েল: হুট করেই হতে পারে

সোনার দাম কমেছে, আজ ভরিতে বিক্রি হচ্ছে যত টাকায়