দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসিফ মাহমুদের রিট
অনলাইন ডেস্ক : দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়েই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রেস ব্রিফিংয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ এমন বক্তব্য দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা রিটটি করেন।
রিটে অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রেস ব্রিফিংকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা এবং আগে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির এক উপপরিচালক আসিফ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানান। ওই সময় অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে বলেও বক্তব্য দেওয়া হয়।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনুসন্ধান শুরুর সময় এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার আইনি এখতিয়ার দুদকের নেই। পরে ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন। তবে এর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার প্রকাশ করা হয়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানোর পরও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করা হয়। সেখানে ডিএনসিসির প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ আরও কিছু অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়।
এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করেছেন আসিফ মাহমুদ। রিটে তিনি বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মন্ত্রণালয়ের আদেশের মাধ্যমে হয়েছে। আর ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি কার্যকর হয় তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর।
রিটে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানোর উদ্দেশ্যে এসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে দেওয়া মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ) ও সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।











