,

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলে আগে থেকেই সক্রিয় ছিল একাধিক পক্ষ

news-image

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর মিরপুর-১-এর ডি ব্লকে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের জমি দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা পক্ষের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা ও ভাঙচুরের পর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
প্রায় ১০ কাঠা জমির ওপর ১৯৭৬ সাল থেকে দরিদ্র ও অসহায় নারী-শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি এখানে সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। জমিটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের। ১৯৮৪ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনাপত্তির শর্তে রাড্ডাকে স্বাস্থ্য ও টিকাদান কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়।
রাড্ডা কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থায়ীভাবে জমি পাওয়ার জন্য তারা উচ্চ আদালতে রিট করেছে, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। অন্যদিকে ২০০৫ সাল থেকে বরাদ্দের সূত্র দেখিয়ে জমিটির মালিকানা দাবি করে আসছে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় মালিক সমিতি’। গত ২৯ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জমি নিয়ে আবেদনও করে সংগঠনটি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও একাধিকবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি দখলের চেষ্টা হয়েছে। ২০০৯ ও ২০১৯ সালে কয়েকটি পক্ষ দখলের উদ্যোগ নিলেও স্থানীয়দের বাধা এবং নিজেদের মধ্যে বিরোধের কারণে তা সফল হয়নি। ২০১৫ সালের পর তৎকালীন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কাজী টিপু সুলতানও জমিটি নিজেদের পারিবারিক সম্পত্তি দাবি করে দখলের চেষ্টা করেছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে সরকারি খাস জমি হিসেবে রেকর্ড থাকায় সেই উদ্যোগ সফল হয়নি বলে জানা গেছে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন করে বিএনপির দুটি পক্ষ জমিটি দখলে সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক পক্ষের সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম এবং অন্য পক্ষের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জগলুর পাশা পাপেলের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, সরকারি জায়গায় চুক্তির ভিত্তিতে প্রায় পাঁচ দশক ধরে স্বাস্থ্যসেবা চালানো হচ্ছে। তার দাবি, এখান থেকে ইপিআইয়ের বড় একটি অংশের টিকা কার্যক্রম, পরিবার পরিকল্পনা এবং প্রসূতি সেবা দেওয়া হতো। এ কারণে এলাকাবাসীর কাছে প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
সম্প্রতি হামলার ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও নথি লুট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে টিকাদান সংক্রান্ত রেজিস্টার ও নথি, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, ফ্রিজ, এসি, সিসিটিভি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল রয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক দেড় কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন ডা. নাসরিন আখতার।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে বেঁধে রাখলেও পুলিশকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল। এরপরও দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর ও লুটপাট চলেছে।
তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তদন্ত প্রতিবেদন ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ওসিকে ক্লোজ করা হয়েছে।
এদিকে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, মো. শাহআলম, মো. আতিকুর রহমান, মো. কামরুল ইসলাম ও মো. শাকিল।
রোববার স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, আইনি দাবি থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনো পক্ষেরই রাতের আঁধারে বুলডোজার দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার নেই। তিনি প্রতিষ্ঠানটির সেবা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার কথাও জানান।

 

এ জাতীয় আরও খবর

আইড় মাছের ভুনা ঝোল — সংক্ষেপে রেসিপি

শিল্পীদের ধর্মকর্ম না জেনে মন্তব্য নয়: নূতন

সত্যজিতের গল্পে ফিরছেন সব্যসাচী, পরিচালনায় সন্দীপ

দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসিফ মাহমুদের রিট

সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে ককটেল-পেট্রোল বোমা উদ্ধার

বোরকা পরে ভূমি অফিসে ডিসি ফরিদা, নিলেন সেবাগ্রহীতার অভিজ্ঞতা

জমি দখলের চেষ্টা ও বাড়িতে হামলায় গ্রেপ্তার ১৩

রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রেখে আইনশৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়: নাহিদ

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১ হাজার ১০০ ছাড়ানোর পথে

সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজের অঙ্গীকার ইইউর ৭ দেশের দূতের