,

৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক কমাচ্ছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র

news-image

অনলাইন ডেস্ক : চীন ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের আমদানি করা মোট ৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় দুই দেশের কৃষিপণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, প্রসাধনী, খেলনা ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য রয়েছে।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, দুই দেশ সংবেদনশীল নয়—এমন প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যকে তুলনামূলক সুবিধাজনক শুল্ক কাঠামোর আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। এতে চীনের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ হবে বলে জানানো হয়।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক শুল্ক কমানোর বিষয়টি উঠে আসে।
হোয়াইট হাউসের তালিকা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা, গম, জোয়ার, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, উদ্ভিজ্জ তেল ও তেলবীজজাত পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা করেছে চীন। তবে সয়াবিন এ তালিকায় রাখা হয়নি। মাছ ও সামুদ্রিক খাবার, কাঠজাত পণ্য, প্রসাধনী ও চিকিৎসা সরঞ্জামও শুল্ক কমানোর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে চীন থেকে আমদানি করা কফি মেশিন, টোস্টার, টেবিলওয়্যার, কম্বল ও বিছানার চাদরের মতো পণ্যে শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খেলনা, আতশবাজি, কৃত্রিম ফুল, ক্রিসমাস ট্রির বাতি, উৎসবসজ্জার সামগ্রী ও শিশুদের গাড়ির আসনও এর আওতায় রয়েছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়ে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। এই সময়ে চলমান সমঝোতা পর্যালোচনা এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিরোধ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে দুই দেশ।
এদিকে শীর্ষ বৈঠকের পর চীনের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশার প্রভাব দেখা গেছে। সোমবার দেশটির প্রধান সূচকগুলোতে পতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন বিধিনিষেধের সম্ভাবনায় প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে চাপ বেশি ছিল।
কৃষিপণ্য বাণিজ্য বাড়াতে দুই দেশ একটি যৌথ কৃষি কর্মদল গঠনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে। বছরের শেষের আগেই এর প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও কৃষিপণ্যের বিধিবিধান নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে।
এ ছাড়া ২০২৭ ও ২০২৮ সালে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক কোটি মেট্রিক টন কয়লা আমদানির বিষয়ে চীন সম্মত হয়েছে। তবে এলএনজি ও অপরিশোধিত তেল এ তালিকায় রাখা হয়নি।
দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–সংক্রান্ত ঝুঁকি বা কোনো ঘটনা ঘটলে পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য একটি ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও একমত হয়েছে। পাশাপাশি চীনে বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ও শাখা খোলার অনুমোদন এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।