রাড্ডা ভাঙচুরে ওসির গাফিলতির অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক : ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সময় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম যথাযথ ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
ডিএমপি কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পাওয়ার পরও ওসি দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাননি এবং নিজেও সেখানে যাননি। পরে মিরপুর বিভাগের ডিসির ফোন পেয়ে আধাঘণ্টারও বেশি সময় পর তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
তদন্তে ওসির দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ওসি তদন্ত কমিটিকে দাবি করেছেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি কাউকে দেখতে পাননি। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, তিনি সেখানে পৌঁছানোর সময় লুট করা মালামাল পিকআপে তোলা হচ্ছিল এবং তা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামালও।
এদিকে ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই দ্বিতীয় দিনের মতো স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে গেছেন রাড্ডা কেন্দ্রের কর্মীরা। রোববার সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ৩৭ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও অন্তত ১৫ জনকে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন এই কেন্দ্র থেকে গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ জন মানুষ সেবা নিতেন বলে জানান কর্মীরা।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, একটি রাজনৈতিক মহল নিজেদের স্বার্থে ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে। হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনায় দলীয় কয়েকজন নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম আলোচনায় এসেছে। তারা জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সংস্কার করে দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে রাড্ডা কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় সেখানে থাকা ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ লেখা সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন এনসিপির কর্মীরা। একটি সাইনবোর্ড কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া এবং একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে। পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি ঘটনায় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির দিকে অভিযোগ তোলেন এবং তার নেতৃত্বে হামলা ও লুটপাট হয়েছে বলে দাবি করেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
কেন্দ্রটি পরিদর্শনের পর চিকিৎসক ও রাজনীতিক তাসনিম জারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চলার পরও পুলিশ তা ঠেকাতে কেন পারেনি, সে প্রশ্নও করেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাড্ডা সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রায় পাঁচ দশক ধরে দরিদ্র ও অসহায় মা ও শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে জমির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো হয়।
এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করেন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার আরও ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তারা হলেন শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, শাহ আলম, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম ও শাকিল। এর আগে শনিবার মো. সোহেল, মো. জুয়েল, মো. জিহাদ হাসান ও মো. রাব্বিকে কারাগারে পাঠানো হয়।











