সংবিধানের মৌলিক সংশোধনে হবে গণভোট
অনলাইন ডেস্ক : সংবিধানের মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তন আনা হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোট আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, ১৪২ অনুচ্ছেদ বা সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনা হলে গণভোটের প্রয়োজন হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন সংসদে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশোধনী বিল প্রস্তুত করবে।
রোববারের বৈঠকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা সংবিধানের বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। দুপুর আড়াইটায় শুরু হওয়া বৈঠকটি বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলে।
বৈঠক শেষে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি জানান, বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, মৌলিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আবারও গণভোট আয়োজন করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি বলেছেন, সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রয়েছে এবং প্রস্তাবিত সংশোধনগুলো সেই পর্যায়ে পড়লে ভোটের আয়োজন করা হবে।
কমিটির পক্ষ থেকে আগামী বছরের শুরুতে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংশোধনী বিল পাসের আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়ে বিলটি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
বৈঠকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের পাশাপাশি বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। জবাবে কমিটির পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে বৈঠকে যুক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর কথা জানানো হয়েছে। তবে তারা বৈঠকে মতামত না দিলেও সংসদে বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবে বলে আশা করছে কমিটি।
গণভোটের ধরন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবিধানিক গণভোট এবং কোনো আইনের বিষয়ে গণভোট—দুই ধরনের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা যায়। সংবিধানে সাংবিধানিক গণভোটের বাইরে অন্য বিষয়ে গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে আগে সাংবিধানিক গণভোটের বিধান ছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেটি বাতিল করা হয়। পরবর্তী সময়ে পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ১৪২ অনুচ্ছেদের ওই বিধান পুনরায় কার্যকর হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, সংসদে সংশোধনী পাস হওয়ার পর যেসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক হবে, সেসব বিষয় রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে জনগণের ভোটে দেওয়া হবে। গণভোটে সংশোধনের পক্ষে সমর্থন পাওয়া গেলে তা অনুমোদিত হবে এবং এরপর রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করবেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অতীতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ব্যাপক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক কাঠামোয় ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুস্তাফিজ শফি।











