আদালতের নির্দেশের পরও হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বাধা
অনলাইন ডেস্ক : আদালতের নির্দেশে প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল হওয়ার পরও হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের অতিথিদের আগমন কভার করতে গিয়ে সিএনএন ও এমএস নাউয়ের সাংবাদিকরা এ পরিস্থিতির মুখে পড়েন।
সংবাদমাধ্যম দুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিএনএনের একজন প্রতিবেদক ও একজন প্রযোজক এবং এমএস নাউয়ের একজন হোয়াইট হাউস প্রতিবেদককে অনুষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, অনুষ্ঠান কভার করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র আগেই জমা দেওয়া হয়েছিল।
সিএনএনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শি জিনপিংয়ের আগমনের প্রায় এক ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউস জানায়, তাদের দল থেকে কেবল একজন ফটোসাংবাদিক ও একজন অডিও প্রযুক্তিবিদকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। প্রতিবেদক ও প্রযোজককে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
এমএস নাউয়ের হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক লরা ব্যারন-লোপেজও জানান, কর্মকর্তারা তাকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এর আগে একই দিন সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরে সংবাদমাধ্যমগুলো জরুরি শুনানির আবেদন করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউসের পরিচালনা বিভাগের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রেস পাস ও জব্দ করা পরিচয়পত্র ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরে তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়। তবে সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে কভারেজ করতে গিয়ে আবারও বাধার অভিযোগ ওঠে।
আদালতের আদেশ
এর আগে ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলি ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে তিন সংবাদমাধ্যমের প্রেস পাস ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ১৪ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিচারক বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ সাংবিধানিক ন্যায্য প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে—এমন দাবির পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।
হোয়াইট হাউস জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে আদালতের নথিতে বিচারক কেলি উল্লেখ করেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রেস পাস বাতিলের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণে প্রশাসনের দেওয়া তথ্য যথেষ্ট নয়।
মার্কিন বিচার বিভাগের আদালতে দেওয়া নথিতে কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম নির্মাণ এবং রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনসংক্রান্ত খবরও ছিল।
ট্রাম্প এর আগে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে তার প্রশাসন নিয়ে ‘মিথ্যা’ ও ‘মনগড়া’ প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ তুলেছিলেন। পরে তিন সংবাদমাধ্যম প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেয়।
মামলায় ৫০টির বেশি সংবাদমাধ্যম আদালতে সহায়ক নথি জমা দিয়েছে। ফক্স নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সাংবাদিকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে কয়েকটি বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতি সংহতি জানিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি সম্প্রচারও সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিল।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক একটি অ্যাকাউন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমগুলো হোয়াইট হাউসের প্রতিটি অনুষ্ঠান, স্থান বা সংবাদ সম্মেলনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রবেশাধিকার পাবে—এমন কোনো নিয়ম নেই।
হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০০৯ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের সময়ও একটি প্রেস পুল সাক্ষাৎকারে ফক্স নিউজকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরে অন্যান্য টেলিভিশন নেটওয়ার্কের আপত্তির পর ফক্স নিউজকে ওই সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।











