অনলাইন ডেস্ক : নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পাঠানো শুরু হলেও দুর্গম এলাকাগুলোতে সেগুলো পৌঁছে দেওয়াই এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের নেপালবিষয়ক আবাসিক সমন্বয়কারী লিলা পিটার্স ইয়াহিয়া বিবিসিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, বিভিন্ন উৎস থেকে ত্রাণ ও জরুরি সামগ্রী নেপালে পৌঁছাচ্ছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সেগুলো পৌঁছে দিতে গিয়ে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বন্যা ও ভূমিধসে অনেক এলাকার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
লিলা পিটার্স ইয়াহিয়া বলেন, ভারত ও চীন থেকে নেপালে পৌঁছানো উদ্ধারকারী দলগুলোও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। তবে দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে তাদেরও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতিতে নেপাল সরকার হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত ও কার্যকরভাবে দুর্গম এলাকায় সহায়তা পৌঁছাতে ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টির সতর্কতা জারি থাকায় পরিস্থিতি নতুন করে অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য যোগাযোগ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে স্থলপথে দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় আকাশপথে হেলিকপ্টারের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো একদিকে নিখোঁজদের সন্ধান ও আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে খাদ্য, পানি ও প্রয়োজনীয় জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।