মানিচেঞ্জারে কড়া নজরদারি
অনলাইন ডেস্ক : মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এখন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার আগে গ্রাহকের পরিচয় ও অর্থের উৎস যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত বিএফআইইউকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার জারি করা এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানকে এসব নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিনের সব স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নির্ধারিত রেজিস্টার বা ডেটাবেজে সংরক্ষণ করতে হবে। হিসাবের বাইরে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা প্রতিষ্ঠানে রাখা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএফআইইউর কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে এসব নথি তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে হবে।
অনুমোদিত ব্যবসাকেন্দ্রের বাইরে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করা যাবে না। ব্যবসাকেন্দ্রের দৃশ্যমান স্থানে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ লাইসেন্স প্রদর্শন করতে হবে। লেনদেনের স্থানেও সিসিটিভি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ধারণ করা ভিডিও অন্তত দুই মাস সংরক্ষণ করতে হবে।
মানিচেঞ্জারে লেনদেন করতে আসা প্রত্যেক গ্রাহকের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। এসব তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন করা যাবে না।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বা বাংলাদেশ সরকারের নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না। এমন লেনদেন শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য বিএফআইইউকে জানাতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে প্রকৃত সুবিধাভোগীর তথ্যও সংগ্রহ করতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পিইপির সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহক পিইপি কি না, তা পরিচয়পত্র ও অন্যান্য তথ্যের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। পিইপির সঙ্গে লেনদেনের জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর অনুমোদন নিতে হবে এবং এসব লেনদেন নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের যাচাই প্রযোজ্য হবে।
কোনো গ্রাহকের আচরণ বা লেনদেন অস্বাভাবিক কিংবা সন্দেহজনক মনে হলে তা বিএফআইইউকে জানাতে হবে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রমের প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের রিপোর্ট করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গ্রাহক বা অন্য কারও কাছে প্রকাশ করা যাবে না।
গ্রাহকের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র লেনদেনের তারিখ থেকে অন্তত পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে হবে। বিএফআইইউ চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব নথি সরবরাহ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা বা ড্যাশবোর্ডে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য রিপোর্ট করতে হবে।
প্রতিটি মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে প্রধান অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার (ক্যামেলকো) হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মানিলন্ডারিংবিরোধী নীতিমালা হালনাগাদ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং বিএফআইইউর সঙ্গে যোগাযোগসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম তদারক করবেন তিনি।
এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, শিক্ষাগত ও অভিজ্ঞতার সনদসহ প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। কর্মীদের নিয়মিত মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং সেই প্রশিক্ষণের রেকর্ডও সংরক্ষণ করতে হবে।











