অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ
অনলাইন ডেস্ক : এক সময় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশকে নিয়ে তেমন আগ্রহ ছিল না। এমনকি ২০১৮ সালে দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডের সিরিজ আয়োজন থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে। ডারউইনে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে এবার বাংলাদেশই অস্ট্রেলিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে।
আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। প্রথম ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সিরিজ জয়ের হাতছানি এখন তাদের সামনে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
২০১৮ সালে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া সফরের সুযোগ না দেওয়ার পেছনে বাণিজ্যিক কারণ দেখানো হয়েছিল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ধারণা ছিল, বাংলাদেশকে নিয়ে দর্শক ও সম্প্রচারমাধ্যমে পর্যাপ্ত আগ্রহ তৈরি হবে না। কিন্তু ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের পর সেই বাস্তবতা এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক জালাল ইউনুসের মতে, অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। তার ভাষায়, আগের সেই সময় এখন আর নেই।
দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারও অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের প্রতি দর্শকদের আগ্রহের পরিবর্তন দেখেছেন। তিনি জানান, ডারউইনে ম্যাচের শেষ দিকে বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়েছিল। বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় শেষ দিনে দর্শকদের উপস্থিতিতে কিছুটা প্রভাব পড়লেও মাঠে তাদের আগ্রহ ছিল স্পষ্ট।
বাংলাদেশের জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ানদের কাছ থেকে পাওয়া সম্মানও আলাদাভাবে তুলে ধরেছেন হাবিবুল। বিমানবন্দর থেকে রেস্তোরাঁ—বিভিন্ন জায়গায় অস্ট্রেলিয়ার মানুষ বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একটি রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ দল ঢোকার সময় স্থানীয়রা দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তবে ডারউইনের সাফল্য নিয়ে বসে থাকতে চায় না বাংলাদেশ। হাবিবুলের ভাষ্য, দলের খেলোয়াড়রা প্রথম টেস্টের ফলাফলকে অতীত হিসেবে দেখছে এবং এখন পুরো মনোযোগ দ্বিতীয় টেস্টে।
ম্যাকাইতে জিততে পারলে শুধু সিরিজই জিতবে না বাংলাদেশ, এর প্রভাব পড়তে পারে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সূচিতেও। বড় দলগুলোর বিপক্ষে আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ এবং আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার ক্ষেত্রে এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবালও বলেছিলেন, এই ফল ভবিষ্যৎ সফরসূচি নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করবে। ফলে ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় টেস্ট এখন শুধু সিরিজ নির্ধারণের ম্যাচ নয়; এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের বদলে যাওয়া অবস্থানেরও বড় পরীক্ষা।











