ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ ঘোষণা ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ নামে একটি ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, যেসব দেশ ইরানকে সহায়তা করবে কিংবা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করবে, তাদের ‘বিপুল অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের নেতারা এখন ‘ধ্বংসের শেষ প্রান্তে’ এবং নতুন এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ দেশটির অর্থনীতিকে ‘পঙ্গু’ করে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অচলাবস্থায় থাকার মধ্যেই ট্রাম্পের এই ঘোষণা এলো। এবার তার হুমকির মূল লক্ষ্য সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। তবে নতুন করে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের একটি লক্ষ্য মার্কিন জনগণকেও বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমগুলো সমন্বিতভাবে তার বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে। এসব সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের দাবিকে অতিরঞ্জিত ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে তুলে ধরেছে।
আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি ট্রাম্পের ঘোষণাকে ওয়াশিংটনের ব্যর্থ ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতিরই ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরানের আচরণ পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাসনিম ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অর্থহীন ও অতিরঞ্জিত ভাষা’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বাণিজ্য ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার বিভিন্ন পদ্ধতি তৈরি করেছে ইরান।
অন্যদিকে ফারস নিউজ এজেন্সি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভ্রান্তিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, ইরানের ‘আসন্ন পতন’ এবং সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও বহুবার করেছে, কিন্তু সেগুলোর বাস্তব ফল দেখা যায়নি।
ফারস আরও দাবি করেছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য মূলত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ এবং ইরানের প্রকৃত পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট ধরন এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ ঘোষণার পর ইরানের ওপর কী ধরনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে এবং তা দুই দেশের অচল আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।











