অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘদিনের সংরক্ষণ কার্যক্রম, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ফলে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বন বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুমারিতে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ শুধু একটি বিপন্ন প্রাণীকে রক্ষা করার বিষয় নয়; এটি পুরো ম্যানগ্রোভ বন, জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গে জড়িত।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি, যা ২০১৮ সালে বেড়ে হয় ১১৪টি। সর্বশেষ শুমারিতে সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫-এ পৌঁছেছে। ক্যামেরা ট্র্যাপ জরিপেও ধারাবাহিকভাবে বাঘের উপস্থিতি বাড়ার প্রমাণ মিলেছে।
একসময় সুন্দরবনে চোরা শিকার বড় হুমকি হলেও বর্তমানে স্মার্ট পেট্রোলিং, ড্রোন নজরদারি, ক্যামেরা ট্র্যাপ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের কারণে বাঘ হত্যা ও মানুষ-বাঘের সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বন বিভাগের দাবি, ২০২৪ সালের পর থেকে সুন্দরবনে কোনো বাঘ হত্যার বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়া একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনীকে উদ্ধার করে প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা শেষে গত ১২ জুলাই আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়। তার চলাচল পর্যবেক্ষণে বনাঞ্চলের আট কিলোমিটার এলাকায় ২০টি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে বিশ্ব বাঘ দিবসের আগে পূর্ব সুন্দরবনের দুটি এলাকায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা মেলে। বনকর্মীদের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে। বন কর্মকর্তারা জানান, নদী সাঁতরে চলাচল বাঘের স্বাভাবিক আচরণের অংশ হলেও এত কাছ থেকে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সরকার বাঘ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, বন অপরাধ দমন এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বাঘের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি স্থাপিত ক্যামেরা ট্র্যাপেও নতুন তিনটি বাঘের ছবি ধরা পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘ সংরক্ষণে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বন ধ্বংস রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নও জরুরি। তাদের মতে, বাঘ রক্ষা করা মানেই সুন্দরবন এবং দেশের উপকূলীয় পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখা।