মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি

news-image

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষাকালের রোগ নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে এডিস মশার বিস্তার সারা বছরই বাড়ছে। ফলে রাজধানী ঢাকার বাইরে দেশের প্রায় সব বিভাগ, জেলা এমনকি গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার এবং সংক্রমণের সময়কাল বিশ্বজুড়েই বাড়ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আর্দ্র পরিবেশ এডিস মশার বংশবিস্তারকে আরও সহজ করে তুলছে। বর্তমানে বছরের বড় একটি সময় ২৫ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করায় মশার জীবনচক্র দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে এবং ভাইরাসও দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে পারছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশের গড় তাপমাত্রা ও ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের পর থেকে প্রায় প্রতি বছরই ডেঙ্গু বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ওই বছর তিন লাখের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং এক হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০২৫ সালে এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৪১২ জনের মৃত্যু হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে নির্মাণাধীন ভবন, ছাদের ড্রাম, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। একই সঙ্গে অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ডেঙ্গুর জটিলতায় বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই জ্বর বা ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মৌসুমি মশক নিধন অভিযান যথেষ্ট নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন চলমান পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় বছরব্যাপী বৈজ্ঞানিক কর্মসূচি, নিয়মিত লার্ভা ধ্বংস, ভেক্টর সার্ভেইল্যান্স এবং জনসচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এ জাতীয় আরও খবর

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত

এলপিজি ও ডিজেল ভর্তুকিতে নতুন কার্ড চালুর উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিইসির বৈঠক ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে

স্বর্ণের দাম আবার কমল ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশীয় চিকিৎসা যন্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আহত জুলাই যোদ্ধার নবজাতকের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের