অনলাইন ডেস্ক : দেশের ৬৬টি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ৩ হাজার ৪০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের সরকারি প্রকল্প নানা জটিলতায় ধীরগতির মুখে পড়েছে। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় নিরাপদ আবাসনের স্বপ্ন এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি এখন পর্যন্ত মাত্র ১৭ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুটি এলাকায় চলমান মামলা, ১৮টি স্থানে ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা, প্রশাসনিক বিলম্ব এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত গতিতে এগোচ্ছে না। ফলে অধিকাংশ পৌরসভায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অগ্রগতি অর্জিত হয়নি।
আইএমইডির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, জমি হস্তান্তর ও মালিকানাসংক্রান্ত জটিলতা, নকশা অনুমোদনে বিলম্ব, দরপত্র মূল্যায়ন, ঠিকাদার নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা এবং কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের সক্ষমতার ঘাটতি প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, অর্থছাড়ে বিলম্ব এবং সমন্বয়হীনতাও কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলজিইডি, সংশ্লিষ্ট পৌরসভা, স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণে অনেক কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা যায়নি। কোথাও ইউটিলিটি সংযোগ, আবার কোথাও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি না থাকায় নির্মাণকাজ ব্যাহত হয়েছে।
আইএমইডি জানিয়েছে, এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৬০টি ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। তবে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার কারণে প্রায় ১২ শতাংশ ফ্ল্যাট নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমানা প্রাচীর, অভ্যন্তরীণ সড়ক, ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের কাজও এখনও শুরু হয়নি।
সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ১৪১ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের গতি বাড়াতে আইএমইডি জমিসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি, সময়মতো অর্থছাড়, ঠিকাদারদের কার্যক্রমে কঠোর তদারকি, প্রকল্প পরিচালনা ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।