অনলাইন ডেস্ক : গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার একটি আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ শান্তা বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় প্রধান আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানায়, নিহত শান্তা বেগম নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
তদন্তে জানা যায়, ২১ জুলাই শান্তা বেগম ও তার তৃতীয় স্বামী পরিচয় দেওয়া সাইফুল ইসলাম চান্দনা চৌরাস্তার একটি আবাসিক হোটেলে কক্ষ ভাড়া নেন। রাতে হোটেল কর্তৃপক্ষের খবর পেয়ে পুলিশ কক্ষ থেকে গলা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নসহ শান্তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর নিহতের বাবা হত্যা মামলা দায়ের করলে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে পরদিন ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাইফুল ও শান্তার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেল কক্ষে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে শান্তার ব্যাগে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে তার গলায় ও পরে বুকে আঘাত করেন সাইফুল। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি নিহতের মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যান।
পিবিআই গাজীপুর জানায়, গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।