,

হজ ব্যবস্থাপনায় আসছে বড় পরিবর্তন, কাঠামো বদলের তাগিদ

news-image

অনলাইন ডেস্ক : আগামী হজ মৌসুমকে সামনে রেখে সৌদি আরবের নতুন সময়ভিত্তিক রোডম্যাপ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রচলিত হজ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। নতুন সূচিতে দেখা যাচ্ছে, হজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই পরবর্তী বছরের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে, ফলে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রচলিত ধারা আর কার্যকর থাকবে না।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৪৪৮/২০২৭ হজ মৌসুমের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। সৌদি আরবের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে মক্কা ও মদিনার আবাসনের তথ্য নুসুক মাসার সিস্টেমে যুক্ত করতে হবে এবং ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রী নিবন্ধন শেষ করতে হবে—যা এবার আরও আগেভাগে নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোডম্যাপে আরও বলা হয়েছে, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, যেমন এয়ারলাইন্স নির্বাচন, কোটা বণ্টন ও অর্থ স্থানান্তরের কার্যক্রম চলবে। আগস্টে মিনা ও আরাফাতের তাঁবু সংরক্ষণ শেষ করতে হবে। এরপর নভেম্বরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তি এবং জানুয়ারির মধ্যে আবাসন, পরিবহন ও ক্যাটারিং সেবার চুক্তি সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আয়াতুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরব এখন পুরো হজ ব্যবস্থাপনাকে অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে গেছে। তাই সময়মতো প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে আগাম নিবন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার মতে, দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন না হলে পরবর্তী সব ধাপেই জটিলতা তৈরি হবে।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হলে বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। তার মতে, বাংলাদেশি যাত্রীরা সাধারণত শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেন, যা এখন আর সম্ভব হবে না। জুলাইয়ের মধ্যেই তাঁবু বুকিংসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করতে হবে, যা সময়মতো নিবন্ধন না হলে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও কেন্দ্রীয় ও সমন্বিত করছে। ফলে প্যাকেজ কমানো ও বড় হোটেলভিত্তিক ব্যবস্থাপনার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে বাংলাদেশকে আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা নিতে হবে।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেন। আগামী বছরের কোটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং তা বাংলাদেশ-সৌদি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ওপর নির্ভর করবে।

হজ ব্যয় নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিমান ভাড়া ও প্যাকেজ কাঠামো পরিবর্তনের কারণে খরচ কমবে নাকি বাড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা, নিবন্ধন নিশ্চিত করা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি চ্যালেঞ্জই আগামী হজ মৌসুমে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ড. ইউনূসকে হেনস্তা, শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির

নবীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে জাবি শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ২৪ জেলের কারাদণ্ড

ডেঙ্গু রোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পীরগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত

সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্রের সময় বাড়ল

ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৫৪

পুলিশি পাহারায় চুয়েট ছাড়লেন উপাচার্য, ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্ত

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় সরকারের নিন্দা

৩৫ বছরের বেশি বয়সে আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধের উদ্যোগ

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু

হামলার আশঙ্কায় নিরাপদ প্রাসাদে সরানো হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে