রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় ঐক্য জোরদার করছে বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক : দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করে কোনো পক্ষ যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে দলটি। এ জন্য অতীতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে কাজ করা রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের দাবি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিগত সরকারের সময়কার কিছু কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতি তৈরি করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত সাবেক ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
দলটির নেতাদের মতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও দূরত্ব তৈরি হলে তা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যাকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ তৈরির পেছনে কোনো গোষ্ঠীর পরিকল্পিত ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা বলছেন তাঁরা।
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তনও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দল দুটির মধ্যে যোগাযোগ থাকলেও নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে তাদের অবস্থানে পার্থক্য দেখা দেয়। সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের পর দুই পক্ষের রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়। পরবর্তী সময়ে জামায়াত ও তাদের মিত্রদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরকারের বিরোধিতা করতে দেখা গেছে।
এদিকে গত আগস্টে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্ন নিষ্পত্তির আগে এমন বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পরাজিত শক্তি এবং তাদের সহযোগীরা ষড়যন্ত্র করছে বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানে সাবেক সরকারের অনুসারীরা এখনো সক্রিয় রয়েছেন।
রিজভী আরও বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধে সক্রিয় থাকবেন বলেও জানান তিনি।
দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে চায় বিএনপির নেতৃত্ব। অতীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যেভাবে যুগপৎ কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্য ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা মোকাবিলায় জাতীয়তাবাদী শক্তি ও জনগণের ঐক্য প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও রাজনৈতিকভাবে আক্রমণের শিকার হলে রাজপথে ছাড় দেওয়া হবে না।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম জানান, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রাখা এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আগামী ডিসেম্বরকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাবেক ক্ষমতাসীন দল ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে কোনো নতুন সমঝোতা তৈরি হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নজর রাখছে বিএনপি। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সারা দেশে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।











