হামলার আশঙ্কায় নিরাপদ প্রাসাদে সরানো হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে
অনলাইন ডেস্ক :ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় তাঁকে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এবং বাংকার-সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার পর যুবরাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁকে জনসমাগম থেকে দূরে রেখে বিশেষভাবে নির্বাচিত নিরাপত্তা দলের তত্ত্বাবধানে রাখা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হুতি বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত পাঁচ দিনে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারবার হামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
বিমান চলাচলবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল করতে হচ্ছে।
এদিকে হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান। তবে দেশটির কর্মকর্তারা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করতে গত মাসে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও চাপের মুখে রয়েছে।
সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। দীর্ঘদিনের ইয়েমেন সংঘাতের পর ওই সমঝোতা পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনায় তা ভেঙে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দর থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার চেষ্টা করা একটি উড়োজাহাজকে লক্ষ্য করে সৌদি বাহিনী গুলি চালিয়েছিল—হুতিদের এমন অভিযোগের পর উত্তেজনা আরও বাড়ে।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের একটি। চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আরব উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে তেহরান উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, এই সংঘাতের ফলে ইসরায়েল সরকার লাভবান হতে পারে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে গত রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টেলিফোনে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে। এ সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুধু সামরিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক সমাধানের পথ অনুসরণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে তেহরান সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে। এরপর থেকেই সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত চলে আসছে।











