জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

news-image
একেএম শামছুল ইসলাম

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাময় দিন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। লেখকের মতে, এটি শুধু একজন রাষ্ট্রপতির মৃত্যু নয়, বরং এমন এক রাষ্ট্রনায়কের প্রয়াণ, যিনি স্বাধীনতার পর সংকটময় সময়ে বাংলাদেশকে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার মধ্যে দেশ পরিচালনার চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ, উন্নয়ন, উৎপাদন, স্বনির্ভরতা ও জনগণের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক দর্শন গড়ে তোলেন। বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নেন।

জিয়াউর রহমান রাজনীতিকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পক্ষে ছিলেন। তার দৃষ্টিতে কৃষি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও উৎপাদন ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বিশ্বাস করতেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রের কাঠামো শক্তিশালী হয়।

উন্নয়ন ও জাতীয়তাবাদকে তিনি পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে দেখতেন। খাদ্য উৎপাদন, গ্রামীণ উন্নয়ন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করেন। তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল জনগণের অংশগ্রহণ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা।

পররাষ্ট্রনীতিতেও তিনি বাস্তববাদী অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন বলে লেখক উল্লেখ করেন। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষে ছিলেন তিনি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এ ধরনের নীতির প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে বলে লেখকের অভিমত।

১৯৮১ সালের ৩০ মে তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। লেখকের মতে, তিনি রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতা, উৎপাদনশীলতা ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের পথে এগিয়ে নেওয়ার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন, তার আকস্মিক প্রয়াণ সেই ধারাবাহিকতায় বাধা সৃষ্টি করে।

জিয়াউর রহমানের জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি তার জনপ্রিয়তার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানাতে অংশ নেয়। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সৎ, কর্মঠ ও দেশপ্রেমিক নেতা, যার সঙ্গে সাধারণ জনগণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

তিনি রাষ্ট্রকে ব্যক্তি-নির্ভর না করে প্রতিষ্ঠান, শৃঙ্খলা, উৎপাদন ও জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, সৈনিক ও সরকারি কর্মকর্তাসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে তিনি রাষ্ট্র গঠনের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতেন।

লেখকের মতে, জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক শূন্যতা সৃষ্টি করলেও তার আদর্শ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এখনও আলোচিত। বহুদলীয় গণতন্ত্র, জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি, আত্মনির্ভরতা এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার শাহাদাত দিবস তাই শুধু শোকের নয়, গণতন্ত্র, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করারও একটি উপলক্ষ।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সাড়ে তিন মাস পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৬

নবীনগরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা

ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা

মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা জামান

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন

৩৫ হাজার টাকায় সিজার, কয়েক ঘণ্টা পর প্রসূতির মৃত্যু; উধাও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

১২ হাজার ৫০০ টাকায় শ্রমিকের সংসার চলে কীভাবে? প্রশ্ন সাদিকের

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ নিহত ২

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

মাঠ দখলে দলবদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পর বিএনপির প্রভাব: নাহিদ

শ্রমিক আন্দোলনে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর গুজব, সুস্থ আছে সামি