৩৫ হাজার টাকায় সিজার, কয়েক ঘণ্টা পর প্রসূতির মৃত্যু; উধাও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ
অনলাইন ডেস্ক : লালমনিরহাট শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর আদরী বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তাঁদের দাবি, ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হলেও রোগীর অবস্থার অবনতি হলে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়নি। ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে শহরের সাপটানা এলাকার নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আদরী বেগম আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের মহিষাসুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন সন্তানের জননী ছিলেন। সর্বশেষ সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে তাঁর একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার প্রসবব্যথা শুরু হলে আদরীকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাত ৪টার দিকে রংপুর অথবা অন্য কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে বিজলী নামে এক নারীর পরামর্শে তাঁকে নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে রোববার রাত ১টার দিকে তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করে। এতে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর রোগীর জন্য রক্ত প্রয়োজন বলে স্বজনদের জানানো হয়। তাঁরা রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তবে সোমবার সকালে ক্লিনিকে গিয়ে আদরীকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের বোন মাফুজা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, রক্তের প্রয়োজনের কথা জানার পর তাঁরা রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা করেন। সকালে ক্লিনিকে ফিরে বোনের শারীরিক অবস্থা দেখে তাঁরা চিৎকার শুরু করেন। পরে নার্সরা এসে তাঁকে রংপুরে নেওয়ার কথা বলেন। তবে ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন মাফুজা।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার যথাযথ পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। অবস্থার অবনতি হলেও সময়মতো জরুরি চিকিৎসা কিংবা উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু। তিনি প্রয়াত সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল হোসেনের ছেলে। তাঁর বাড়ি শহরের থানাপাড়া এলাকায়। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর ক্লিনিকে গিয়েও কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. হাকিম বলেন, ঘটনাটি তাঁদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রসূতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।











