,

হাম আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে

news-image

হাসপাতালের বারান্দায় কোলে জ্বরে জর্জর শিশুকে আঁকড়ে বসে আছেন এক মা, চোখে ক্লান্তির ছাপ, পাশে ছোটাছুটি করছেন বাবাÑ চিকিৎসা ও ভর্তি প্রক্রিয়ার আশায়। রাজধানীর ডিএনসিসি হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখন এমন দৃশ্যই নিয়মিত বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

হাম আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোয় চাপও তীব্র হয়েছে। অনেক স্থানে বিভিন্ন সেবা সীমিত করে শুধু হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবুও শয্যার সংকট, রোগীর ভিড় এবং দ্রুত সংক্রমণের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ডিএনসিসি হাসপাতালের বারান্দায় মায়ের কোলে বসে আছে শিশু আয়েশা সিদ্দিকা। হাসপাতালে ভর্তির জন্য বারান্দায় অপেক্ষারত মা ও মেয়ে; সঙ্গে আছে ভর্তি থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এ ফাঁকে কথা হয় আমাদের সময়ের সঙ্গে। কাল দিন পর তার জন্মদিন। এক বছর পূর্ণ হবে আয়েশার; কিন্তু হাসি-খুশি আয়েশার মুখ একদম মলিন। সারা শরীরে অস্থিরতা ও গুনগুন কান্নার আওয়াজ। মা বললেন, একদম খেতে চায় না। কয়েকদিন ধরে শরীর খারাপ, কিন্তু গতকাল শরীর বেশি খারাপ হয়ে যায়। ডাক্তার বলেছেন, হাম হয়েছে। আজ হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।

সারাদেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। রাজধানীর ডিএনসিসি হাসপাতালে এখন শুধু হামের চিকিৎসা করা হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৬৪ জন, যার মধ্যে ২৬ জন নারী ও ৪৮ জন পুরুষ এবং ৩৯০ জন শিশু। আইসিইউয়ে ভর্তি ৫২ জন। গতকাল মারা গেছে দুজন, নতুন ভর্তি হয়েছেন ১২৩।

অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এমন এক ব্যক্তি কাজল আক্তার বলেন, আমার ১৯ মাস বয়সী শিশু জয়নাব। সময়মতো টিকা না দেওয়ায় হামে আক্রান্ত। বাচ্চার অসুস্থতায় আমাদের মনোবল একদম

ভেঙে পড়েছিল; কিন্তু ডাক্তার অনেক সাহস দিয়েছেন।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে গত এক দিনে নতুন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন ১০ জন। হাসপাতাল ত্যাগ করেছে ১১ জন। বর্তমানে ভর্তি ৬২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২২৯ জন। হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১২৯ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামের রোগী ৩ হাজার ৯৩৪ জন। হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১৭ হাজার ৯৯৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামে নিশ্চিতভাবে কারো মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। ১৫ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩৮ জন এবং সন্দেহজনক হামে ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি হামে আক্রান্ত হয়েছে।

গতকাল সরেজমিন রাজধানীর আফতাব নগরের সূর্যের হাসি ক্লিনিকে দেখা যায়, টিকা নিতে ভিড় করছে সাধারণ মানুষ।

সূর্য়ের হাসি ক্লিনিকে দায়িত্বরত মরিয়ম বেগম বলেন, প্রতিদিন এখানে গড়ে প্রায় ১৫০ জনকে ইপিআই টিকা দেওয়া হয়। ১২ তারিখ থেকে আমরা টিকা দেওয়া শুরু করেছি। সাধারণত ৬ মাস বয়স থেকে ৫ বছরের নিচের শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। দুই থেকে তিন বছরের বাচ্চাদের সংখ্যায় বেশি।

ফারজানা আক্তার বলেন, আমার বাচ্চা ফাইয়াজের বয়স আট মাস হয়েছে। কিছুদিন সে অসুস্থ ছিল, এখন সুস্থ হয়েছে; তাই এই ফাঁকে হামের টিকা দিতে এসেছি।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে টিকা দেওয়া হয়েছে ২৪ লাখ ২৯ হাজার ১০৯ জনকে। ৮ বিভাগে আজকের দিন পর্যন্ত মোট হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে ৪১ লাখ ৪৩ হাজার ২৩৭ জনকে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

জন্মদিনে কৃতজ্ঞতা জানালেন মোনালিসা

কমল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার

ঢামেকের বাথরুমে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ

টেকসই গণতন্ত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান সিইসির

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার

বিমানকর্মীদের ঘিরে স্বর্ণ পাচারের চক্র

১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ ঘিরে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা সিজেপি নেতাদের

চিকিৎসক স্ত্রীকে মারধরের মামলায় স্বামী কারাগারে

৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সে নতুন দায়িত্বে সারজিস-আসিফ-মিতু

পিচ্চি রাজার পালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই পুলিশ

রবিউল আলমসহ ৯ জনকে আসামি করার আবেদন খারিজ