বাড়বে আমদানি-রপ্তানি ব্যয়

news-image

আবু আলী
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে দেশের আমদানি ও রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সমুদ্র বা আকাশ কোনো পথেই কার্যত পণ্য যাচ্ছে না। ফলে আমদানি-রপ্তানি দুই দিকেই তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। এদিকে ইরান গত সোমবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে হুশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো জাহাজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে রেভোল্যুশনারি গার্ড ও নৌবাহিনী আগুন ধরিয়ে দেবে। এ ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এ অবস্থায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাড়বে বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি ব্যয়।

জানা গেছে, প্রচলিত রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক বেশি পথ ঘুরে আসছে জাহাজ ও কার্গো বিমান। ফলে ইতোমধ্যে সাগর ও আকাশ পথে পণ্য পরিবহন খরচ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে বাড়বে মূল্যস্ফীতি। বাড়বে ডলারেরও দাম। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দ্রুতই ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা উচিত বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ইতোমধ্যে যুদ্ধ বড় আকার ধারণ করেছে। যা মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। কত দিন এই যুদ্ধ চলবে বোঝা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে পণ্য আমদানি ও রপ্তানিতে অসুবিধা হচ্ছে। সামনে জ্বালানি দুশ্চিন্তাও বড় হচ্ছে। বিপিসির তথ্যানুযায়ী, কেরোসিন ছাড়া অন্যান্য জ্বালানির মজুদ আমাদের দুই-চার সপ্তাহের রয়েছে। তাই বিকল্প কোন উৎস থেকে তেল-গ্যাস আমদানি করা যায়, সেই পরিকল্পনা আগেই করা উচিত।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে তুলাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে দেশের মিল ও কারখানাগুলোর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।

জানা গেছে, বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধের করণে বিশ্ববাজারে তেলের

 

দাম ইতোমধ্যে ১০ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সরকার জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে।

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, বিকল্প পথে পণ্য পরিবহন করতে হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের খরচ আরও বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ পড়বে।

জানা গেছে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে চীন, মালয়েশিয়া ও হংকং রুট ব্যবহার করতে হতে পারে। এতে ব্যয় বাড়বে। সাধারণত চট্টগ্রাম থেকে ছোট জাহাজে কলম্বো, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাংকে পণ্য নেয় বাংলাদেশ। এরপর পণ্যগুলো বড় জাহাজে (মাদার ভেসেল) তোলা হয়। অধিকাংশ জাহাজ সুয়েজ খাল হয়ে বা কেপ অব গুড হোপ ঘুরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে যায়।

জানা গেছে, দুই বছর আগে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর হুতি হামলার কারণে শিপিং কোম্পানিগুলো সুয়েজ খাল ব্যবহার কমিয়ে দেয়। কেপ অব গুড হোপ হয়ে যাওয়া জাহাজগুলোকে প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে জ্বালানি খরচ বেশি হয়, ফলে ভাড়া বেড়ে যায়। এবারও শিপিং কোম্পানিগুলো ভাড়া বাড়াতে শুরু করেছে। খরচ ভাগাভাগির মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতারা এই বাড়তি খরচ স্থানীয় সরবরাহকারীদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিচালিত হয়। যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রণালিটি বন্ধ থাকে, তবে তা বৈশ্বিক শিপিং ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এখনই অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার সময় নয়, পরিস্থিতি কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। এ সময় জ্বালানি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়ে জনসাধারণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে সাড়ে তিন মাস পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৬

নবীনগরে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনা

ধর্মীয় নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা

মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা জামান

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন, সাধারণ ছুটি ১৫ দিন

৩৫ হাজার টাকায় সিজার, কয়েক ঘণ্টা পর প্রসূতির মৃত্যু; উধাও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ

১২ হাজার ৫০০ টাকায় শ্রমিকের সংসার চলে কীভাবে? প্রশ্ন সাদিকের

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ নিহত ২

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে নতুন আইন, মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

মাঠ দখলে দলবদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পর বিএনপির প্রভাব: নাহিদ

শ্রমিক আন্দোলনে স্কুলছাত্রের মৃত্যুর গুজব, সুস্থ আছে সামি