,

কারাগারে ক্ষুদ্রাকৃতির মোবাইল ফোন, নিরাপত্তায় বড় হুমকি

news-image

শাহজাহান আকন্দ শুভ
কারাগারগুলোয় অপব্যবহার করা অতিক্ষুদ্রাকৃতির মোবাইল ফোন দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। নানা কৌশলে এসব ফোন কারাগারের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছে বন্দিরা। এরপর সেগুলো কারাগারের বাইরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, মাদক ব্যবসা এবং চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করছে। এমনকি অতিক্ষুদ্রাকৃতির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে রাজনৈতিক বন্দিরা বাইরে যোগাযোগ করছে। এমন প্রেক্ষাপটে কারা অধিদপ্তর সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে লেখা এক চিঠিতে এসব ফোনের অপব্যবহার রোধে বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কারাগারগুলোতে (বিশেষত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ, কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার) অবৈধভাবে মোবাইল ফোন প্রবেশ ও ব্যবহারের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব ফোনের অধিকাংশই ছোট আকারের (মিনি সাইজের)। অনেক ক্ষেত্রে বৃদ্ধাঙ্গুলির সমান এ ফোনগুলো ওজনে অত্যন্ত হালকা এবং সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় শরীরের গোপন অংশে/বিশেষ অঙ্গে লুকিয়ে প্রবেশ করানো যায় এবং তল্লাশিতে ধরা পড়ে না। এসব ফোনের বেশিরভাগ অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করছে এবং বন্দিরা এসব ফোন ব্যবহার করে কারাগারের ভেতর থেকে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, অনৈতিক কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী/রাজনৈতিক যোগাযোগ ও নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।

চিঠিতে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনাপূর্বক অবৈধভাবে আসা এসব ফোন রহিতকরণে শুধু বিটিআরসি-অনুমোদিত/নিবন্ধিত নির্দিষ্ট ভেন্ডর বা ডিলার কর্তৃক এ ধরনের ফোন বিক্রয়, ক্রেতা শনাক্তকরণে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইকরণ ও সংরক্ষণ এবং ডিলার কর্তৃক বিক্রয়কৃত ফোনের আইএমইআই নম্বর সংরক্ষণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন গত মঙ্গলবার আমাদের সময়কে বলেন, আমরা ক্ষুদ্রাকৃতির মোবাইল ফোনের বিষয়ে বিটিআরসিকে জানিয়েছি। তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্রাকৃতির মোবাইল ফোন যাতে কোনো বন্দি কারাগারের ভেতরে নিতে না পারে এ ব্যাপারে আমরা নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। কারা অধিদপ্তর থেকেও আমরা টিম পাঠাচ্ছি বিভিন্ন কারাগারে। যার ফলে এখন এ ধরনের মোবাইল ফোনের অপব্যবহার কমে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারাগারের কোনো সদস্য এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকলে আমরা তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

জানা গেছে, কারাবন্দিরা যাতে অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে, এ জন্য কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক জ্যাম রাখতে জ্যামার মেশিন বসানো আছে। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে জ্যামার মেশিন ইনস্টলেশনের কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া কারাগারের ভেতরে কোনো বন্দি বা কারারক্ষী যাতে ক্ষুদ্রাকৃতিসহ অন্য যে কোনো আকারের অনুমোদিত মোবাইল ফোন নিতে না পারে এ জন্য নানা পদক্ষেপ চলমান রেখেছে কারা অধিদপ্তর। গত বছর অতিক্ষুদ্রাকৃতির প্রায় ৬০০ মোবাইল ফোন জব্দ করে বিভিন্ন কারা কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার করা এসব মোবাইল ফোন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধ্বংস করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, বন্দিরা আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার সময় পায়ুপথসহ পরিধেয় কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য মালামালের মধ্যে লুকিয়ে ভেতরে নিয়ে যায়। কারা ফটকে তল্লাশিকালে তা কখনও কখনও ধরা হয়। আবার তল্লাশিতে যেগুলো ধরা পড়ে না, সেগুলো ভেতরে নিয়ে যায় বন্দিরা। এ ছাড়া ছোট ছোট বলের মধ্যে অতিক্ষুদ্রাকৃতির ফোন ঢুকিয়ে সেই বলে কারাগারের ভেতর ছুড়ে মারা হয়। পরে সেই বলের ভেতর থেকে মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে বন্দিরা। এ কাজে একশ্রেণির কারারক্ষী বন্দিদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা কারারক্ষীরা ধরাও পড়ে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সূত্র বলেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাঝে মধ্যেই দেশের বড় বড় কেন্দ্রীয় কারাগারগুলোর ভেতর বিশেষ টিম দিয়ে তল্লাশি করা হয়। এতে অতিক্ষুদ্রাকৃতির ফোন ধরাও পড়ে।

জানা গেছে, বন্দিদের মানসিক চাপ কমাতে এবং পরিবারকে আশ্বস্ত করতে ২০১৮ সালে দেশে প্রথমবারের মতো কারাগার থেকে বন্দিদের মোবাইল ফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে বন্দিরা কারাগার থেকে বাইরে থাকা স্বজনদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে পারেন। তবে নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে শীর্ষ সন্ত্রাসী বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য এবং দাগী অপরাধীদের জন্য এই সুবিধা বন্ধ রাখা হয়। প্রতিটি কল রেকর্ড করা হয় ও সার্বক্ষণিক কারারক্ষীরা নজরদারি করে।

একজন বন্দি প্রতি সপ্তাহে ১০ মিনিট কথা বলতে পারেন স্বজনদের সঙ্গে। এমনকি ভিডিওকল করে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। কথা বলার সময় কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্তরা তা নজরদারিতে রাখেন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ঘরেই বানান জিভে জল আনা ‘চিড়া-মুগ ক্ষীর’

হাঁটতে বেরিয়ে সড়কে প্রাণ গেল ২ নারীর

‘সুখের মতো অসুখ’র দিনগুলোতে রবীন্দ্রনাথ

দুর্গাপূজাকে ঘিরে অপশক্তি চক্রান্ত করতে পারে: রিজভী

নবীনগরে সততা ব্রিকস ফিল্ডে ডাকাতি, নাইটগার্ড ও ম্যানেজারদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি, মামলা করলে হত্যার হুমকি

ঢাকায় আজ বৃষ্টি হবে কি?

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার

দুর্নীতিবাজ গ্রেপ্তারে আবার সক্রিয় হচ্ছে দুদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান

সংখ্যালঘু নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহ্‌দী আমিন

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যায় অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, বিক্ষোভে প্রার্থীরা