,

সম্পদের প্রতি হাসিনার লোভ অবাক করেছে

news-image

আদালত প্রতিবেদক : ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্লট দুর্নীতির মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়েও শেখ হাসিনার সম্পদের প্রতি এত লোভ আমাকে অবাক করেছে। পর্যবেক্ষণে একই সঙ্গে তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে অপসারণ ও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের আদেশ দিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক ১৬টি নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার ৫ম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই নির্দেশনা দেন।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে অনিয়মে জড়িত। দুই প্রতিষ্ঠানই আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বার্থে প্লট বরাদ্দ প্রদান করেছে, যাতে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় নীতিমালাকে অবমাননা করা হয়েছে। তাই সরকারি আবাসন ও জমি বরাদ্দসংক্রান্ত অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক দুর্নীতি রোধে রাজউক ও মন্ত্রণালয়কে বিশেষ সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

শেখ হাসিনার লোভ : রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শেখ হাসিনা, তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হয়েও তার সম্পদের প্রতি এত লোভ আমাকে অবাক করেছে। বিচারক শুরুতে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ দিয়ে রায় পড়া শুরু করেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির সংবাদ সাংবাদিকরাই সংবাদপত্রে প্রকাশ করেছিলেন। তাই তাদেরই প্রথম ধন্যবাদ দিলাম। পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, রাজউকের প্লট বরাদ্দ নিয়ে শেখ হাসিনা আইন মানেননি। রাজউকের প্লট বরাদ্দের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা তা করেননি।

রাজউক সম্পর্কে ৭ নির্দেশনা : রায়ের পর্যবেক্ষণে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়, রাজউক দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি জমি বরাদ্দের আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করেছে। চেয়ারম্যানসহ

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাধ্যতামূলক নিয়ম না মেনে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আবেদনের অনুমোদন দিয়েছেন। বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মন্ত্রী-এমপি, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী, আমলা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই বরাবর সুবিধা পেয়েছেন। বহুক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাই না করে বা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাংবিধানিক দায়িত্বের লঙ্ঘন।

এই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সাতটি নির্দেশনা দিয়েছেন- ১. সব অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি মামলা করতে হবে। ২. ওই সময়ে দেওয়া সব বরাদ্দের ওপর স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ফরেনসিক অডিট করতে হবে। ৩. বরাদ্দের জন্য ডিজিটাল লটারি চালু করতে হবে; লাইভ সম্প্রচার, অডিট ট্রেইল ও এনক্রিপ্টেড সিস্টেম বাধ্যতামূলক। ৪. বেআইনি বরাদ্দ অনুমোদন করা কর্মকর্তারা যৌথভাবে দায়ী হবেন এবং চাকরি থেকে বরখাস্তসহ তাদের ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি করতে হবে। ৫. দুর্নীতি প্রকাশকারী হুইসেল-ব্লোয়ারদের আইনি সুরক্ষা ও পুরস্কার দিতে হবে। ৬. গৃহহীন, নিম্ন আয়ের শ্রমিক ও অনিরাপদ পরিবেশে বসবাসকারী পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে পয়েন্টভিত্তিক যোগ্যতা ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং ৭. একক মা, প্রতিবন্ধী, নিম্ন আয়ের পরিবার ও সরকারি চাকরি শেষে আবাসনহীনদের জন্য নির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ রাখতে হবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কে ৯ নির্দেশনা : রায়ে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়টি রাজউককে সঠিকভাবে তদারকি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের তদারকি ছিল নামমাত্র। বরং মন্ত্রণালয় নিজে ‘বিশেষ শ্রেণি’র বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় বেআইনি প্রভাব খাটিয়েছে। এতে নিয়ম ভঙ্গের পরিবেশ আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়কে ৯টি নির্দেশনা দিয়েছেন- ১. সরকারের বিশেষ সুপারিশ নীতিমালা বাতিল করতে হবে। ২. বিশেষ শ্রেণির বরাদ্দ সংক্রান্ত কোনো সুপারিশ চলমান থাকলে তা বাতিল এবং নতুন করে এই শ্রেণিতে কোনো বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। ৩. মন্ত্রণালয়কে রাজউকের ওপর পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। ৪. স্বাধীন নজরদারি ইউনিট গঠন করতে হবে। ৫. অনিয়মে জড়িত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে হবে। ৬. জাতীয় সম্পত্তি ডাটাবেস, ভূমি রেকর্ড, সিটি করপোরেশন হোল্ডিং, সাব-রেজিস্ট্রি ও টিআইএন নম্বরের সঙ্গে রাজউকের ডিজিটাল সংযোগ বাধ্যতামূলক করতে হবে। ৭. আবেদনকারীর তালিকা, যোগ্যতার ভিত্তি, প্লট নম্বর ও সুবিধাভোগীর তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করতে হবে। ৮. ডিজিটাল লটারি, পয়েন্ট-ভিত্তিক স্কোরিং ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার বাধ্যতামূলক এবং ৯. দুর্নীতি উন্মোচনকারী কর্মীদের জন্য আইনি সুরক্ষা ও পুরস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

বরাদ্দ পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্বিতরণ : আদালতের দেওয়া রায়ে অতীতের সব বরাদ্দ পর্যালোচনা করে বেআইনি বা একাধিক প্লট ভোগকারীদের শনাক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পুনরুদ্ধার হওয়া সব প্লট শুধু ভূমিহীন নাগরিক ও যোগ্য আবেদনকারীদের পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ড. ইউনূসকে হেনস্তা, শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন জামায়াত আমির

নবীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে জাবি শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ২৪ জেলের কারাদণ্ড

ডেঙ্গু রোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পীরগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত

সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্রের সময় বাড়ল

ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৫৪

পুলিশি পাহারায় চুয়েট ছাড়লেন উপাচার্য, ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্ত

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় সরকারের নিন্দা

৩৫ বছরের বেশি বয়সে আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধের উদ্যোগ

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু

হামলার আশঙ্কায় নিরাপদ প্রাসাদে সরানো হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে