,

সৌদি-মার্কিন সম্পর্কে বেড়েছে দূরত্ব

news-image

অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক প্লাসের উৎপাদন হ্রাসের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের দূরত্ব আরেক দফা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ওপেক বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ কমানোর ঘোষণা দেয়। এর প্রভাব পড়েছে বাইডেন প্রশাসন ও সৌদি রাজ পরিবারের সম্পর্কে। আজ শনিবার জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই দেশের এক ডজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এমনিতে সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যা নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের অবস্থান, ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে সমর্থন তুলে নেওয়া এবং ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির ইস্যু নিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর নাখোশ রিয়াদ। এর মধ্যেই ওপেক বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বড় আকারে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওপেকের অন্তর্ভুক্ত ১৩ সদস্যের এই জোটে রয়েছে মস্কোর নেতৃত্বাধীন আরো ১০টি দেশ।

গত সপ্তাহে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দৈনিক সরবরাহ ২০ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনবে ওপেক। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে অস্থির জ্বালানির বাজারে যা বড় এক ধাক্কা হয়ে এসেছে। এর ফলে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বেড়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সপ্তাহ শেষে প্রায় ৯৮ ডলার ছুঁয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, ওপেকের তেলের সরবরাহে লাগাম টানা ঠেকাতে সৌদির ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করে হোয়াইট হাউস। কেননা গ্যাসোলিনের মূল্যের আরেক দফা বৃদ্ধির কারণে ইউএস কংগ্রেসের মধ্যমেয়াদী নির্বাচনে সংকটে পড়বে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটরা। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের এ সময়ে জ্বালানির উচ্চমূল্য থেকে রাশিয়া যাতে সুবিধা না পায় সেই দিকটিও নিশ্চিত করতে চায় তারা।

এ বিষয়ে রিয়াদের সঙ্গে দেনদরবার করতে বাইডেন তার জ্বালানি দূত অ্যামোস হকস্টাইন, জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রেট ম্যাকগুর্ক এবং প্রশাসনের বিশেষ দূত টিম ল্যান্ডারকিংকে গত মাসে সৌদি পাঠান। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত আনতে ব্যর্থ হন।

রয়টার্স জানিয়েছে, আলোচনায় মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে ‘যুক্তরাষ্ট্র বনাম রাশিয়া’ ইস্যু হিসেবে অভিহিত করে সৌদিকে যেকোনো এক পক্ষ বেছে নেয়ার কথা বলেন। জবাবে সৌদি কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাজারে আরো তেলের সরবরাহ চায় তাহলে তাদের নিজেদের উৎপাদন বাড়িয়েই সেটি করা উচিত।

মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র হলো বিশ্বের এক নম্বর তেল উৎপাদনকারী ও সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী দেশ।

রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয়ে যোগাযোগ করে কোনো সাড়া পায়নি। তবে গত বুধবার সৌদি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বলেন, ‘সৌদি আরবের স্বার্থ আমাদের কাছে সবার আগে। এরপর আমাদের ওপর আস্থা রাখা দেশের স্বার্থ এবং ওপেক ও ওপেক প্লাসের সদস্যদের স্বার্থ।’

এদিকে সৌদির সিদ্ধান্তকে হতাশাজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন বাইডেন। তেলের বাজার ঠিক রাখতে ওয়াশিংটন সামনে আরো পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জন পিয়ার বলেন, ‘এটা পরিস্কার যে ওপেক প্লাস রাশিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে।’

উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে সৌদি। জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে রিয়াদের সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলে অন্য দেশগুলোর ওপরেও। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় সৌদিকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হলেও এবার ওয়াশিংটনের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি।

 

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না