,

কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মা দেবীকে বিদায় জানানো হয়। এদিকে টানা ছুটিতে সৈকতে বেড়েছে পর্যটকের সংখ্যা। আর প্রতিমা বিসর্জনের দিন হওয়ায় সৈকতে নতুনমাত্রা যোগ হয়েছে। সন্ধ্যায় সৈকতে লাখো পর্যটকের ঢল নামে।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষ হয়েছে। সম্প্রীতির সেতুবন্ধ তৈরিতে হিন্দুসম্প্রদায়ের পাশাপাশি এ অনুষ্ঠানে শামিল হয় সব ধর্মের মানুষ। অশ্রু চোখে আরও একটি বছরের জন্য দেবীকে বিদায় জানানো হয়। আগামী বছর দেবীর পুনরাগমনের আশায় বুক বাঁধবেন সবাই। মূলত দশমীই দুর্গাপূজার প্রধান অনুষঙ্গ। তবে দেবী দুর্গার বিদায়, অর্থাৎ স্বামীগৃহে গমনের পাঁচ দিন পরই লক্ষ্মীপূজার মধ্য দিয়ে আবার পিতৃগৃহে ফিরে আসবেন তিনি।

প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সমুদ্রসৈকতে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তার কাজে মাঠে তৎপর ছিল র‌্যাব। এ ছাড়া আনসার-ভিডিপি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তার জন্য কাজ করেন।

সকাল থেকে কক্সবাজার জেলার পূজামন্ডপগুলোতে বিরহের সুর বেজে ওঠে। মা দেবী দুর্গা ফিরে গেলেন কৈলাসে সন্তানদের আশীর্বাদ করে। সকাল থেকে কক্সবাজার জেলার পূজাম-পগুলোতে ভক্তদের মাকে বিদায়ের শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে দেখা যায়। দুপুরের পর থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন মন্ডপ থেকে প্রতিমা বহনকারী ট্রাকগুলো কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের দিকে আসতে থাকে। শহরজুড়ে নেওয়া হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। বেলা ৩টার পর থেকে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। লাবণী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট পর্যন্ত সনাতন ধর্মাবলম্বী আর সৈকতে আসা পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

এ উপলক্ষে লাবণী সৈকতে জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত মঞ্চে এক সমাবেশ হয়। এই মিলন উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান, টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার জিল্লুুর রহমান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উজ্জ্বল করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ নানা সম্প্রদায়ের মানুষ। বিসর্জন মঞ্চ থেকে মন্ত্র উচ্চারণ শেষে সমুদ্রসৈকতে শুরু হয় বিসর্জন। এরপর একে একে পূজাম-পের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় সাগর সৈকতে।

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উজ্জ্বল কর জানিয়েছেন, জেলায় ৩০৫টি মন্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ১৪৮টি প্রতিমা পূজা আর ১৫৭টি ঘট পূজা। প্রতিটি মন্ডপে ছোট-বড় ৬টি প্রতিমা রয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলায় ২৮, ঈদগাহ উপজেলায় ২৬, কক্সবাজার পৌরসভায় ২১, রামু উপজেলায় ৩২, চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভায় ৯২, পেকুয়া উপজেলায় ৯, কুতুবদিয়া উপজেলায় ৪৫, মহেশখালী উপজেলা ও পৌরসভায় ৩১, উখিয়া উপজেলায় ১৬ ও টেকনাফ উপজেলায় ৬টি পূজামন্ডপের আয়োজন করা হয়।

এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিসর্জন হলেও সৈকতে নানা ধর্ম-বর্ণ মানুষের মিলন ঘটে। বিসর্জন দেখতে আসা সুবর্ণা বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা বন্ধুবান্ধবরা প্রতিবছরই বিসর্জন দেখার জন্য সৈকতে আসি। গত বছর করোনার কারণে আসিনি। এবার অনেক ভালো লাগছে।’

ঢাকার মিরপুর থেকে আসা পর্যটক দম্পতি সুধর্ম ও প্রিয়া বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের এ দৃশ্যটি দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। কক্সবাজার সৈকতে এই মিলনমেলা না দেখলে বোঝা যাবে না বাংলাদেশ যে একটা সম্প্রীতির দেশ।

চট্টগ্রাম থেকে আসা রণজিত বড়ুয়া বলেন, ‘সাপ্তাহিক বন্ধ ও পূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসেছি। বিসর্জনে নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ দেখে খুবই ভালো লাগছে।’

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেন্টু দাশ জানান, এ বছর জেলায় ৩০৫টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার সৈকতে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান জানান, তিন স্তরে নিরাপত্তা জোরদারের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে। শুধু সৈকত এলাকায় প্রায় কয়েক শ ফোর্স মোতায়েন করা হয়। যানজট নিরসনে সৈকতের কলাতলী থেকে আশপাশের সড়কগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না