,

…ইতি আশিকউজ্জামান টুলু

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ঘণ্টা দশেক আগে নিজের এবং তার শ্রোতাদের বয়স নিয়ে বেশ মজার একটা পোস্ট দেন বর্তমান কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশের জনপ্রিয় মিউজিক্যাল পারসনালিটি আশিকউজ্জামান টুলু। আর তাতেই আবেগে ভাসেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। তার সেই পোস্টে স্মৃতিচারণমূলক দেড় শতাধিক মন্তব্যে মানুষ চোখবুজে তাদের স্মৃতিচারণ করেন। কেউ আবার মজা করে লেখেন, ‘আপনি জয়া আহসান এর মতো অনেকটা। বাবা, আমি, ছোট ভাই, ভাগ্নে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম আপনার কাজের ভক্ত ছোটবেলা থেকেই।’

অনুরাগী আর শ্রোআ-ভক্তদের এই আবেগ দেখে নিজেও আবেগে ভাসেন এই মিউজিক্যাল ট্যালেন্ট। কিছুক্ষণ আগে দেওয়া আরেকটি ফেসবুক পোস্টে যেন সে আবেগের কথাই বললেন। নতুন এই পোস্টে উঠে এলো আজীবন গানপাগল এই মানুষটির গান করার কিছু গল্প। পোস্ট করা হলো তার নতুন লেখাটি।

‘গতকাল বয়স সংক্রান্ত একটা ফান পোস্ট দেয়ার পর অনেকেই আমার বা আমাদের কিভাবে শুনেছে, সেটার বিবরণ দিয়েছে কমেন্টে। কি পরিমাণ ভালোলাগায় মন ভরে গিয়েছে তা বলতে পারব না। সবাইকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অনেক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

একটা কথা না বলেই পারছি না। আমাদের এই ছোট্ট জীবনে প্রতিটা কাজের একটা ইম্প্যাক্ট আছে যা কিনা ওই মুহূর্তে একেবারেই বোঝা যায় না কিন্তু ১০ বছর পরে হোক কিংবা ২০ বছর পর হোক, একটা বিশাল ইম্প্যাক্ট ঠিকই আসে- যখন মনে হয় জীবনটা অনেক সুন্দর।

যে গানগুলোর কথা বা সৃষ্টির কথা কমেন্টে ওনারা বলেছেন অর্থাৎ যে গানগুলো ওনাদের অনেকের জীবনের অনেক ঘটনার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, সেগুলো করার সময় আমি কিন্তু এক মুহূর্ত সময় পাই নাই একবারের জন্য ভাবতে যে গানগুলো কেমন হচ্ছে? কিংবা এগুলো কি মানুষ শুনবে কি-না? কিংবা এগুলো হিট হবে কি-না। আল্লার কসম, তখন শুধু পাগলের মতো কাজ করে গেছি অন্ধকার স্টুডিওর ভেতরে বসে, বাইরের আলো চোখে পড়ে নাই। প্রেমিকা নিয়ে একদিন ঘুরতে যাইতে পারি নাই, ঈদের দিন সবার সাথে কাটাইতে পারি নাই, মাস্টার্স পরীক্ষার আগের দিন কনসার্ট করতে বরিশাল চলে গেছি এবং পরের দিন দুপুরে এসে পরীক্ষা দিসি, একদিন হোটেলে খাইতে যাইতে পারি নাই, যা খাওয়া খাওয়ি সব ওই অন্ধকার স্টুডিওতে বসে স্টুডিও বয়দের রান্না, আম্মার সাথে বসে একটা দিন গল্পও করতে পারি নাই।

আশিকউজ্জামান টুলু
এগুলো কিন্তু একটাও আমার অভিযোগ না, বরং অসম্ভব আনন্দের স্মৃতি। অর্থাৎ মিউজিক করতে গিয়ে সব কিছু ভুলে গেছি, কিচ্ছু মনে থাকে নাই, মনে না থাকার জন্য এক ফোঁটাও কষ্ট পাই নাই। তখন স্টুডিও ছাড়া অন্য কোথাও যাইতেও ইচ্ছা করত না, গেলেও কখন চলে আসব সেইটা ভাবতাম, প্রেমিকা রেগে যেত, মুখে মুখে অভিনয় করে কেয়ার দেখাইতাম কিন্তু মনে মনে পাত্তাও দিতাম না ওই সব রাগারাগি। চাইরানা পয়সা পাত্তাও দিতাম না মনে মনে। এই কারণে মিউজিশিয়ানদের সাথে প্রেম করার আগে ৫ বার ভাইবা নিও। কারণ মিউজিশিয়ানদের কাছে মিউজিকের চাইতে কোনোকিছু দামি না। সত্যি কথা বলতেসি, রাগ কইরো না তোমরা। কাজের সময় প্রেম ফ্রেম এ সময় নষ্ট কইরো না, প্রেম কইরা মানুষ ম্যাক্সিমাম বিয়া করতে পারে কিন্তু সৃষ্টি কইরা মানুষ বিশাল কিছু করতে পারে, তাই সৃষ্টি আগে, প্রেম আগে না। প্রেমও লাগবে তবে মাত্রার বেশি না।

আমার ধারণা আমাদের সময়ের অনেকেই ঠিক আমার মতো করেই কাজ চালায় গিয়েছিল বলেই অনেকগুলো ভালো গান হইসে। কেউ হিট হওয়ার আশায় কিছু করে নাই, একেবারে ভালোবাসা থেকে করসে। হ্যাঁ, বেঁচে থাকার জন্য তো অবশ্যই কিছুটা ছিল, তবে পুরোটা না।

সবাইকে আবারো অনেক ভালোবাসা জানায় শেষ করছি।…ইতি আশিকউজ্জামান টুলু।’

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না