বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধনী ও গরীবের ইফতার

news-image

লাইফস্টাইল ডেস্কগরীবের আবার ভালো ইফতার, জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে তিন বেলা পেটে ভাতে খাওয়াই কষ্টকর! ভালো ইফতারি কেনার সাধ্য কি গরীবের আছে। ফুটপাত থেকে যা কিনতে পারি, তাতেই আনন্দ।’ সামান্য মুড়ি, ছোলা, পিঁয়াজু আর পানিই এক মাত্র ভরসা। ইফতারকে নিয়ে এর রিকশাচালক জানালেন এমন সহজ সরল স্বীকারোক্তি।
শনিবার শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেশ কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কষ্ট হলেও ১০ থেকে ২০ টাকা ব্যয় করেন ইফতার কিনতে। তবে যেদিন আয় ভালো হয়, সেদিন ইফতারে আইটেমের সংখ্যাও বেড়ে যায়। অবশ্য সেটা সবসময় সম্ভব নয়। কারণ রোজ রোজ  যদি ভালো আইটেম দিয়ে ইফতার করা হয় তবে পেট চলবে কিভাবে ? এ এক কঠিন প্রশ্ন তাদের জীবনযাত্রায়।
বিশ্বব্যাপী কোন জাতীয় বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান আসলে কেনাকাটার  ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সুবিধার জন্য মূল্য হ্রাস ঘোষণা করা হয়। এতে ক্রেতা এবং ব্যবসায়ী উভয়েরই লাভ হয়। ক্রেতারা কম দরে পণ্য ক্রয় করতে পারে। পাশাপাশি কম দর হলে বেশি বিক্রি হবে ফলে কম লাভ করে বেশি বিক্রি করবে। দাম কম হলেও বেশি বিক্রি করে তা পুষিয়ে নেয়। এটাই বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়ীদের নীতি।
কিন্তু বাংলাদেশে ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করে কবে রমযান বা ঈদ আসবে। তখন বেশি দামে বিক্রি করে এক মাসে এক বছরের ব্যবসা করে নেবে। সারা বছর এ জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে ব্যবসায়ীরা। রমযান আসার আগেই মাল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করে। ঈদ বা যে কোন পার্বনে যেসব পণ্য বেশি বিক্রি হবে ঐ সব পণ্য গোপনে মজুদ করে ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করে ব্যবসায়ীরা “োর ব্যবসা করে নেয়। এটাই বাংলাদেশের সার্বিক চিত্র।
ইফতার সামগ্রি কেনার ক্ষেত্রে প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় তাদের। তাদের ভরসা ফুটপাতের ইফতারের দোকানগুলো। বেশির ভাগ সময় মুড়ি, ছোলা, পিঁয়াজু দিয়েই ইফতার করেন তারা। শরবত বা খেজুর দিয়ে ইফতার করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। অনেকের আবার ইফতারি কেনার সামর্থ্য না থাকায় ভিড় জমান মসজিদে বা বড় বড় হাউস গুলোতে।
শহরের দোকানগুলোতে দেখা গেল, ইফতার সামগ্রীর মূল্য গতবারের তুলনায় এবার অনেক বেশী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে ইফতারের বাজারেও এটা অস্বীকারের কিছু নেই। প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করে যাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয় বা হচ্ছে তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ইফতার সামগ্রী কেনা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফুটপাতের ইফতারের দোকান থেকে ১০-১৫ টাকার ইফতার কিনেই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।
গত শুক্রবার মাগরিবের আযানের কয়েক  মিনিট আগে মগবাজার রেললাইনের পাশে দেখা গেল ৫/৯ জন রিকশাচালক একত্রিত হয়ে বসেছেন। কাছে যেতেই চোখে পড়ল  তারা মুড়ির সঙ্গে ছোলা ও পিয়াজু মেশাচ্ছেন। কিন্তু মুড়ির মধ্যে ছোলা বা পিয়াজু খুঁজে পাওয়াই বড় কষ্টকর। ভাই কি দিয়ে ইফতার করছেন জিজ্ঞেস করতেই শহিদুল জানালেন, দেখতেই পারছেন  তো মুড়ি, ছোলা ও পিঁয়াজু দিয়ে।
৮২ টাকা ব্যয় হয়েছে এগুলো কিনতে। বেগুনি বা আলুর চপ কিনতে গেলে আরো বেশি টাকার দরকার হতো। কোথায় পাবো এত টাকা? রোযা রেখে বেশি পরিশ্রম করাও তো  যায় না ভাই। যতটুকু আয় করি তা থেকে কিছু ইফতার কিনতে ব্যয় করি।
তারা আরো বলেন, সামনে ঈদ। বাবা,মা,স্ত্রী- সন্তানদের জন্য তো কিছু নতুন কাপড়-চোপড় কিনতে হবে। মুখরোচক খাবার দিয়ে ইফতার করলে ঈদ করবো কিভাবে ভাই।
এদিকে বাজারে জিনিসপত্রের চড়া দাম। সব কিছুই সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। বলা যায় বাজারে আগুন। এই আগুনে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারছে। বিশেষ করে নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাভিশ্বাস।
রোজা ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকলের জন্যই ফরয। রোজা তার ইচ্ছার ব্যাপার আর ইফতার সাধ্যের ব্যাপার। অর্থাৎ গরীরের জন্য রোজা ইফতার নয়। এটা তার সাধ্যের বাইরে। রোজা আর ইফতারের মধ্যে যেন একটা বিভেদ তৈরি হয়ে গেছে। রোজা গরীবের জন্য আর ইফতার ধনীদের।

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা